নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে দেশে সৌরবিদ্যুৎ বাড়ছে, কিন্তু মেয়াদ শেষে অকেজো হয়ে পড়া সৌরপ্যানেল ও যন্ত্রপাতি কীভাবে সংগ্রহ, পুনর্ব্যবহার আর নিরাপদে নিষ্পত্তি হবে, তার কার্যকর পরিকল্পনা নেই। এরই মধ্যে দেশের ৪১ জেলায় প্রায় দেড় লাখ অকেজো ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) পড়ে আছে, যেগুলোর নিরাপদ নিষ্পত্তি বা পুনর্ব্যবহারেরও উদ্যোগ নেই।
বুধবার আন্তর্জাতিক ই-বর্জ্য দিবসে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে 'বাংলাদেশে ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সুশাসন: চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা' শীর্ষক সম্মেলনে এসব তুলে ধরেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। টিআইবি ও ওয়েস্ট ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইকুইপমেন্ট সোসাইটি বাংলাদেশ সম্মেলনটির আয়োজন করে।
ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে একসময় বিপুলসংখ্যক প্যানেল ও যন্ত্রপাতি বর্জ্যে পরিণত হবে। শুরু থেকে ব্যবস্থা না থাকলে ভবিষ্যতে বড় সংকট তৈরি হতে পারে, তাই পরিকল্পনা এখনই দরকার।
তাঁর ভাষায়, ২০২১ সালে ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিধিমালা হলেও এর বাধ্যবাধকতা ঠিকমতো মানা হচ্ছে না। নানা নীতি ও কৌশল থাকলেও সামগ্রিক নীতিকাঠামো নেই; ই-বর্জ্যের পরিমাণ, ধরন ও ব্যবস্থাপনার পূর্ণাঙ্গ তথ্যভান্ডার না থাকায় পরিকল্পনা ও অগ্রগতি মাপা কঠিন। সরকারি সংস্থার সমন্বয়হীনতা ও সক্ষমতার ঘাটতিও বড় বাধা। পরিবেশ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বাড়ানো এবং দায়িত্ব বণ্টনে সুস্পষ্ট নির্দেশনার কথা বলেন তিনি।
ই-বর্জ্যে ঝুঁকির পাশাপাশি সম্ভাবনাও আছে: পুরোনো ইলেকট্রনিক পণ্য থেকে তামা, অ্যালুমিনিয়াম ও লোহা উদ্ধার করে নতুন পণ্যে ব্যবহার করা যায়। কিন্তু পরিকল্পনার অভাবে তা কাজে লাগছে না। টিআইবির নির্বাহী পরিচালক জানান, ই-বর্জ্য সংগ্রহের ৯০ শতাংশের বেশি কাজ করেন অনানুষ্ঠানিক খাতের কর্মীরা, যাঁদের প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি নেই, স্বাস্থ্য সুরক্ষাও উপেক্ষিত।
সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. মো. সাইমুম পারভেজ এবং বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান এমদাদ উল বারী।
ছবি: Helena Wright / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.0); খুলনায় সোলার হোম সিস্টেমের প্রতীকী ছবি
সূত্র: সমকাল





মন্তব্য
(০)