জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব, নদীর পানিতে অস্বাভাবিক লবণাক্ততা আর মানসম্মত রোগমুক্ত পোনার অভাবে দেশের উপকূলে বাগদা চিংড়ি চাষ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। উৎপাদন কমে যাওয়ায় আর্থিক ক্ষতিতে পড়ছেন চাষিরা।
চাষিদের হিসাবে, আগে ঘেরে ছাড়া পোনার ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত আহরণ করা যেত। এখন সেই হার নেমে প্রায় ১০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে বলে দাবি করছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, আর চাষের খরচ তুলতে হিমশিম খাচ্ছেন অনেক খামারি।
খুলনার পাইকগাছা ও কয়রা অঞ্চলে দুই দশক ধরে চিংড়ি চাষ করছেন জাতীয় স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত চাষি গোলাম কিবরিয়া রিপন। পাইকগাছায় ছয়টি আলাদা ঘেরে তাঁর প্রায় ১ হাজার ১০০ বিঘা জমি, যার বেশির ভাগই লিজ নেওয়া। কয়রাসহ মোট প্রায় ২ হাজার বিঘা ঘেরে তিনি পরিবেশবান্ধব ও প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে বাগদা চিংড়িসহ লবণসহিষ্ণু নানা মাছ চাষ করেন।
তাঁর খামারে স্থায়ীভাবে কাজ করেন ৭৫ থেকে ৮০ জন শ্রমিক। ঘের প্রস্তুতের মৌসুমে আরও ৪০০ থেকে ৫০০ দিনমজুরের কাজ জোটে। তাই উৎপাদনে সংকট দেখা দিলে শুধু খামারি নন, এই কাজের ওপর নির্ভরশীল শ্রমজীবী মানুষও অনিশ্চয়তায় পড়েন।
উপকূলের অর্থনীতি আর রপ্তানিমুখী মৎস্য খাতে বাগদা চিংড়ির গুরুত্ব বড়, তাই খাতসংশ্লিষ্টদের উদ্বেগও বাড়ছে। তাঁদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা, পানির লবণাক্ততা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ এবং রোগমুক্ত মানসম্মত পোনার সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে চাষের ঝুঁকি কমানো সম্ভব।
পাশাপাশি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে ঘের ব্যবস্থাপনা, পানির গুণাগুণ পরীক্ষা ও রোগ প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগ জরুরি বলে মনে করছেন তাঁরা। টেকসই চিংড়ি চাষের জন্য চাষিদের প্রশিক্ষণ, গবেষণা আর সহজে পাওয়া যায় এমন কারিগরি সহায়তা বাড়ানোর ওপরও জোর দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।
ছবি: Pelagic / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0); বাগদা চিংড়ির প্রতীকী ছবি
সূত্র: এগ্রিকেয়ার২৪





মন্তব্য
(০)