পুনরুজ্জীবনী কৃষি তখনই সফল হয় যখন কৃষক স্থানীয় অবস্থার সঙ্গে মানানসই সহায়তা পান, বলছেন বহুজাতিক শস্য ব্যবসায়ী এডিএমের দুই কর্মকর্তা। তাঁদের অভিজ্ঞতা দুই বিপরীত মেরুর: অস্ট্রেলিয়ার বড় তুলা খামার আর ভারতের ক্ষুদ্র সয়াবিন চাষি। খবরটি দিয়েছেন অ্যাগনেভিগেটরের আমান্ডা লিম।
এডিএম ট্রেডিং অস্ট্রেলিয়ার ব্যবস্থাপনা পরিচালক টিমোথি হেনরি এবং ভারতে এডিএমের কৃষি সেবা ও তেলবীজ বিভাগের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অমরেন্দ্র মিশ্র বলেন, সংজ্ঞা ও মূলনীতি সারা বিশ্বে এক হলেও সনদ ব্যবস্থা এমনভাবে সাজাতে হয় যাতে কৃষক নিজের জমির উপযোগী পদ্ধতি বেছে নিতে পারেন।
ভারতে এডিএমের সয়াবিন কর্মসূচি টানা পাঁচ বছর প্রোটেরা সনদ পেয়েছে। প্রায় দুই দশক ধরে প্রতিষ্ঠানটি স্থানীয় ও সরকারি অংশীদারদের সঙ্গে উপকরণ, সম্পদ সংরক্ষণ, সম্প্রসারণ সেবা ও বাজার সংযোগে কাজ করছে। গত পাঁচ বছরে কৃষক উৎপাদক সংগঠনে (এফপিও) বিনিয়োগ করে এখন ৩৫০টির বেশি এফপিওর মাধ্যমে প্রায় ৫০ হাজার কৃষকের সঙ্গে যুক্ত। আলাদা আলাদা কৃষকের বদলে দলের মাধ্যমে জ্ঞান ও কারিগরি সহায়তা পৌঁছানো সহজ হয়, অভিজ্ঞ এফপিও নতুনদের শেখায়।
টেকনোসার্ভের সঙ্গে অংশীদারত্বে দেখা গেছে, কর্মসূচি সাজানোর আগে ক্ষুদ্র কৃষকের কথা শোনা কতটা জরুরি। তা থেকেই এসেছে কৃষক মাঠ স্কুল, প্রদর্শনী প্লট ও ধাপে ধাপে গ্রহণের পদ্ধতি, যাতে কৃষক আগে ছোট পরিসরে পরীক্ষা করে ফল দেখে তারপর বাড়াতে পারেন।
অস্ট্রেলিয়ায় তুলা কর্মসূচি চলে এডিএম রিজেনাগ্রি ফার্ম গ্রুপ লাইসেন্সে, তুলনামূলক অল্প কিছু চাষি নিয়ে। ২০২৪/২৫ মৌসুমে ১৯,৯৬৪ একর সনদপ্রাপ্ত খামারের তুলা বিক্রি করেছে এডিএম, ২০২৫/২৬ মৌসুমে সনদপ্রাপ্ত খামারে লাগানো হয়েছে ২১,৯৭৬ একর।
দুই দেশেই কৃষকের দরকার হাতে-কলমে জ্ঞান, কারিগরি সহায়তা আর ফলন ও আয় ঝুঁকিতে না ফেলে নতুন পদ্ধতি চেষ্টার আত্মবিশ্বাস, বলেন কর্মকর্তারা। ক্রেতাদের মধ্যে উৎস শনাক্তযোগ্যতার চাহিদা বাড়ছে, আর সেই বাজারই সনদকে কৃষকের কাছে লাভজনক রাখবে। তাঁদের মতে, কোনো একক নকশা নেই; সরবরাহ শৃঙ্খলের সবার সহযোগিতাই এ পদ্ধতিকে বড় করবে।
ছবি: Valisport24 / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: AgNavigator





মন্তব্য
(০)