ডিম ও মাংস দুই উদ্দেশ্যে পালনযোগ্য মুরগির জাত দক্ষিণ আফ্রিকা অঞ্চলের পোলট্রি খাতে নতুন সুযোগ আনতে পারে, বিশেষ করে যাঁরা এখন দেশি মুরগি পালেন তাঁদের জন্য। ওয়ার্ল্ড পোলট্রি ফাউন্ডেশন (ডব্লিউপিএফ) এমনটাই মনে করছে।
ডব্লিউপিএফের উদ্ভাবন বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট মরিন স্টিকেল (Maureen Stickel) ফার্মার্স উইকলিকে বলেন, দেশি মুরগি সাধারণত বছরে ৪০ থেকে ৬০টি ডিম দেয়, আর খাদ্য ও ব্যবস্থাপনাভেদে এই জাতের মুরগি দেয় প্রায় ১৫০টি। উপযুক্ত পরিবেশে এগুলো প্রায় তিন মাসে ২ কেজি ওজনে পৌঁছাতে পারে; দেশি মুরগির লাগে প্রায় আট মাস।
২০২৬ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর ডব্লিউপিএফ আফ্রিকাজুড়ে তাদের প্রথম জরিপ প্রকাশ করে, যাতে ৩৩ দেশের ৭২টি কোম্পানির তথ্য আছে। জরিপে দেখা যায়, ২০২৫ সালে মহাদেশে ২১ কোটি ৩০ লাখ থেকে ২২ কোটি ৫০ লাখ এক দিনের বাচ্চা বিক্রি হয়েছে।
তবে বাজার অসম। অনুমিত বিক্রিতে দক্ষিণ আফ্রিকা অঞ্চলের ভাগ মাত্র ২.৩ শতাংশ, পূর্ব আফ্রিকার ৬৪.৭ এবং পশ্চিম আফ্রিকার ২৬.৭ শতাংশ; বাকি ৬.৩ শতাংশ উত্তর ও মধ্য আফ্রিকার। স্টিকেল বলেন, খামারির পাশাপাশি হ্যাচারি, খাদ্য সরবরাহকারী ও বাচ্চা লালনের ইউনিটেও বড় হওয়ার সুযোগ আছে। তাঁর ভাষায়, এটি পুরো নতুন একটি বাজার, লেয়ার ও ব্রয়লারের বাজার এতে কমবে না।
দক্ষিণ আফ্রিকায় কিছু খামারি এরই মধ্যে বাফ অরপিংটন ও পচেফস্ট্রুম কোয়েকোয়েকের মতো জাত পালন করে উর্বর ডিম, বাচ্চা ও মাংসের জন্য মোরগ বিক্রি করে আয় করছেন, বলেন অ্যাগ্রিকালচারাল রিসার্চ কাউন্সিলের পোলট্রি গবেষক ড. লেটলোগোনোলো সেলালেদি (Dr Letlhogonolo Selaledi)। তিনি জানান, সেপ্টেম্বরে নর্থ ওয়েস্টের মাদিবোগোতে এক কৃষক দিবসে অনেকে মাংস উৎপাদন বাড়াতে এসব জাতের সঙ্গে দেশি মুরগির সংকরায়ণে আগ্রহ দেখিয়েছেন।
তাঁর মতে, এই সম্ভাবনা কাজে লাগাতে কার্যকর একটি মূল্য শৃঙ্খল গড়তে হবে: খামারির প্রশিক্ষণ, নির্ভরযোগ্য সরবরাহ, উপযুক্ত খাদ্য ও প্রজননের মুরগি, আর ভোক্তার চাহিদা নিয়ে গবেষণা।
ছবি: Rex / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: Farmers Weekly South Africa





মন্তব্য
(০)