জন্ম থেকে কসাইখানা পর্যন্ত একটি প্রাণীকে অনুসরণ করা গেলেও শূকরের ইলেকট্রনিক শনাক্তকরণ (ইআইডি) যুক্তরাজ্যে এখনো কম, বিশেষ করে নেদারল্যান্ডসের মতো ইউরোপীয় প্রতিযোগীদের তুলনায়। পিগ ওয়ার্ল্ড জানাচ্ছে, বাধার মধ্যে আছে খরচ, তথ্য কীভাবে ব্যবহার হবে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং কসাইখানায় উপযুক্ত যন্ত্রের অভাব।
যুক্তরাজ্যের বেশ কিছু খামারে ইআইডি নিয়ে কাজ করা পরামর্শক ডমিনিক চারম্যান (Dominic Charman) আরেকটি কারণ বলেন: খামারিদের নজর বেশি প্রজননকারী পালে, মোটাতাজা করার ধাপে কম। তাঁর কথায়, যুক্তরাজ্যের বেশির ভাগ উৎপাদক টাকা পান মাংসের কেজি হিসাবে, মাদিপ্রতি বাচ্চার সংখ্যায় নয়।
জন্মের সময় লাগানো ইআইডি ট্যাগে প্রতিটি ধাপে শূকরের ওজন উঠে থাকে এবং তা নির্দিষ্ট মাদি শূকরের সঙ্গে যুক্ত থাকে, যা ব্যবস্থাপনা ও প্রজননের সিদ্ধান্তে কাজে লাগে। আফ্রিকান সোয়াইন ফিভারের প্রাদুর্ভাবে প্রতিটি শূকরের গতিপথ জানা যেতে পারে, অন্য খামারের শূকরের সঙ্গে মিশে গেলেও। প্রক্রিয়াজাতকারীরা প্রাণিকল্যাণ বা টেকসই উৎপাদনের প্রিমিয়াম ঠিক খামারে পৌঁছাতেও এটি ব্যবহার করতে পারেন।
নর্দাম্পটনশায়ারের ব্রিজ হাউস ফার্মে চার্লি থম্পসন (Charlie Thompson) প্রতিটি শূকরকে জন্মের সময় অতি উচ্চ কম্পাঙ্কের আরএফআইডি ট্যাগ পরান, যা স্ক্যানিং ও ওজন মাপার যন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত এবং স্বাস্থ্যের তথ্যও রাখতে পারে। তিনি বলেন, এই তথ্য ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত ও জিনগত বাছাইয়ে কাজে লাগছে, আর প্রজননের শূকর রপ্তানির রেকর্ড রাখা ও স্বাস্থ্য পরীক্ষায় শ্রম ও মানুষের ভুল কমেছে।
চারম্যান সতর্ক করেন, শুধু সংখ্যা জমালে লাভ নেই; অন্তর্দৃষ্টি না মিললে বেশির ভাগ তথ্যই অর্থহীন। উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, এক খামারে মোটাতাজা শূকরের মৃত্যু সামান্য বাড়ার কারণ খুঁজে দেখা গেল, দুই মাদির দুটি পুরো বাচ্চার দল দুধ ছাড়ার পর মারা গেছে। পালক মায়ের কাছে দেওয়ার কারণে দলভিত্তিক রেকর্ডে এই সম্পর্ক ধরা পড়ত না।
খরচ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এখন রেকর্ডে সময় কম লাগে। আলাদা একটি আরএফআইডি রিডারের দাম প্রায় ১,১০০ পাউন্ড, আর বেশির ভাগ খামারে যে ওজনযন্ত্র আছে তা এর সঙ্গে যুক্ত করা যায়। তথ্য সংগ্রহের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুই মুহূর্ত, তাঁর মতে, জন্ম ও জবাই।
প্রতিবেদন: অ্যালিস্টার ড্রাইভার (Alistair Driver)।
ছবি: Atelier Joly / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: Pig World





মন্তব্য
(০)