মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকার বনের স্লথকে প্রায়ই পৃথিবীর সবচেয়ে অলস প্রাণী বলা হয়। গাছে বসবাসকারী অনেক স্লথ সপ্তাহে মাত্র একবার মলত্যাগের জন্য মাটিতে নামে। তবে এর কারণ অলসতা নয়, শরীরের বিশেষ অভিযোজন: অত্যন্ত ধীর হজম আর কম বিপাকক্রিয়া।
যুক্তরাষ্ট্রের স্মিথসোনিয়ানস ন্যাশনাল জুর তথ্য অনুযায়ী, দুই-আঙুলের স্লথের খাবার হজম হতে অনেক সময় প্রায় এক মাস লেগে যেতে পারে, যদিও সব প্রজাতি বা সব প্রাণীর ক্ষেত্রে সময়টা একই নয়। খাবার দীর্ঘ সময় পরিপাকতন্ত্রে থাকে বলে নিয়মিত মলত্যাগের প্রয়োজনও কম হয়। স্লথ ইচ্ছা করে মল আটকে রাখে, ব্যাপারটা এমন নয়।
স্লথের প্রধান খাবার গাছের পাতা, যার পুষ্টিমূল্য কম এবং হজম করতে সময় লাগে। একই আকারের সাধারণ স্তন্যপায়ীর তুলনায় স্লথের বিপাক অনেক ধীর, তিন-আঙুলের স্লথের ক্ষেত্রে আরও কম। তাই শক্তি বাঁচাতে প্রাণীটি অপ্রয়োজনীয় নড়াচড়া এড়িয়ে ধীরে চলে। এতে শিকারির নজরেও কম পড়ে। এত কম নড়াচড়া করে যে তার লোমে শ্যাওলা জন্মায়।
গাছের ওপর লোমের রং আর গঠন স্লথকে আশপাশের সঙ্গে মিশিয়ে রাখে। কিন্তু মাটিতে নামলে সেই সুবিধা থাকে না, জাগুয়ার বা বড় শিকারি পাখির সামনে সে তুলনামূলক অসহায়। এত ঝুঁকি নিয়েও কেন গাছ থেকে নেমে মলত্যাগ করে, তার সুনির্দিষ্ট উত্তর এখনো জানা যায়নি। বিজ্ঞানীদের ধারণা, তিন-আঙুলের স্লথের লোমে বাস করা মথ, অণুজীব ও শ্যাওলার সঙ্গে এই অভ্যাসের সম্পর্ক থাকতে পারে, তবে এটিও চূড়ান্ত ব্যাখ্যা নয়।
স্মিথসোনিয়ানস ন্যাশনাল জু জানায়, দুই-আঙুলের স্লথ দিনে প্রায় ১৫ ঘণ্টা ঘুমাতে পারে। অনেকে দিনে বিশ্রাম নেয় আর রাতে খাবারের খোঁজে সক্রিয় হয়। ডালে উল্টো হয়ে ঝুলে থেকেই তারা বিশ্রাম নেয়, খায়, এমনকি বাচ্চাও প্রসব করে। হাঁটায় ধীর হলেও সাঁতারে স্লথ বেশ দক্ষ।
'অলসতা' কোনো বৈজ্ঞানিক শ্রেণিবিভাগ নয়। কম শক্তির খাবারে বেঁচে থাকা, ধীর বিপাক আর সীমিত চলাফেরা মিলে স্লথের শরীর যেভাবে অভিযোজিত হয়েছে, সপ্তাহে একবার মলত্যাগ তারই অংশ।
জাগো নিউজের ফিচার ডেস্কের প্রতিবেদনটির তথ্যসূত্র ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক ও স্মিথসোনিয়ানস ন্যাশনাল জু।
ছবি: Stefan Laube (Tauchgurke) / উইকিমিডিয়া কমন্স (Public domain)
সূত্র: জাগো নিউজ ২৪





মন্তব্য
(০)