ইংল্যান্ডের খামারগুলো ইতিমধ্যে প্রচলিত ভালো নাইট্রোজেন ব্যবস্থাপনা মেনে চললেই জ্বালানিজনিত কার্বন পদচিহ্ন খামারের ধরনভেদে ৮.৮ থেকে ১৩ শতাংশ কমাতে পারে। যুক্তরাজ্যের রথামস্টেড রিসার্চের (Rothamsted Research) এ গবেষণা প্রকাশ হয়েছে ফুড অ্যান্ড এনার্জি সিকিউরিটি সাময়িকীতে।
গবেষকেরা খামারে সরাসরি পোড়ানো ডিজেল-বিদ্যুতের বাইরে উপকরণের ভেতরে লুকানো জ্বালানিও হিসাব করেছেন, আর তাতে সবচেয়ে বড় অংশ সার তৈরির। গবাদিপশু নেই এমন খামারে জ্বালানিজনিত প্রভাবের ৩৯ থেকে ৪৭ শতাংশই সার উৎপাদনের নিঃসরণ। ভালো নাইট্রোজেন ব্যবস্থাপনায় সারসংশ্লিষ্ট পরোক্ষ জ্বালানি ব্যবহার ১৬ থেকে ৪০ শতাংশ কমে।
শস্য, দুগ্ধ, মিশ্র, সাধারণ ফসল ও নিচু চারণভূমির পশুখামারের প্রতিনিধিত্বমূলক মডেলে বর্তমান জ্বালানি ব্যবহারের সঙ্গে ভালো চর্চার তুলনা করা হয়। বছরে হেক্টরপ্রতি জ্বালানিজনিত প্রভাব চারণভূমির খামারে ৪০১ কেজি কার্বন ডাই-অক্সাইড সমতুল্য থেকে দুগ্ধখামারে ১,০০২ কেজি পর্যন্ত। ভালো নাইট্রোজেন ব্যবহারে পানিতে পুষ্টিদূষণ ও অম্লতাও কমে।
প্রধান লেখক ড. ওয়াই. ঝাং বলেন, বিশেষ করে ফসলি খামারে সার উৎপাদন পরোক্ষ জ্বালানি ব্যবহারের বড় উৎস। রথামস্টেডের বিজ্ঞান পরিচালক অধ্যাপক অ্যাডি কলিন্স (Adie Collins) বলেন, বড় সুযোগ এই লুকানো জ্বালানি কমানোয়, যেমন নবায়নযোগ্য বিদ্যুতে তৈরি সবুজ অ্যামোনিয়া; তবে স্থির নবায়নযোগ্য সরবরাহের প্রয়োজন মাথায় রেখে এর সুবিধা-ঝুঁকি এখনো যাচাই করতে হবে।
গবেষণাটি হয়েছে গ্লোবাল নাইট্রোজেন ইনোভেশন সেন্টার ফর ক্লিন এনার্জি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট কর্মসূচির আওতায়। রথামস্টেড এখন যুক্তরাজ্যের খামারে সবুজ অ্যামোনিয়া উৎপাদনের সম্ভাবনা ও বিভিন্ন সারের জীবনচক্র মূল্যায়ন করছে।
যেকোনো দেশের কৃষক, যিনি বস্তা ধরে নাইট্রোজেন কেনেন, তাঁর হিসাবও একই দিকে যায়: ফসলের চাহিদামতো মাত্রা ও সময়ে সার দিলে টাকাও বাঁচে, সার তৈরিতে খরচ হওয়া জ্বালানিও।
ছবি: Andy Beecroft (ইয়র্কশায়ারে সার ছিটানো) / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 2.0)
সূত্র: Seed World Europe





মন্তব্য
(০)