শতবর্ষের বেশি সময় ধরে সাদা বাটন মাশরুমের ক্ষতি করে আসা ব্যাকটেরিয়াল ব্লচ রোগের পেছনে একটি নয়, ১৭টির বেশি রোগসৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া প্রজাতি রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের খাদ্য ও কৃষিবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের (ইউএফ/আইএফএএস) এই গবেষণা প্রকাশিত হয়েছে 'মাইক্রোবায়োলজিক্যাল রিসার্চ' সাময়িকীতে।
রোগটিতে মাশরুমের গায়ে বাদামি বা হলুদ দাগ পড়ে, বাজারদর কমে, ফলন কমে এবং মাশরুম তাড়াতাড়ি নষ্ট হয়। কখনো কখনো দোকানে পৌঁছানো বা ক্রেতার কেনার পর লক্ষণ দেখা দেয়, তাই চাষিদের পক্ষে মান নিশ্চিত করা কঠিন।
গবেষকেরা যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি উৎপাদন কেন্দ্র থেকে আক্রান্ত মাশরুম সংগ্রহ করে ডিএনএ সিকোয়েন্সিং, রাসায়নিক বিশ্লেষণ ও প্রচলিত গবেষণাগার পরীক্ষা চালান। প্রধান লেখক, ইউএফ/আইএফএএস-এর পিএইচডি শিক্ষার্থী সামেরিকা মুদিয়ানসেলাগে (Sameerika Mudiyanselage) বলেন, 'রোগটির সঙ্গে আমরা ১৭টির বেশি রোগসৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া প্রজাতি পেয়েছি।' পরিচিত দুটি জীবাণুই প্রধান থাকলেও আগে এ রোগের সঙ্গে যুক্ত হয়নি এমন আরেক দল ব্যাকটেরিয়াও অপ্রত্যাশিত মাত্রায় পাওয়া গেছে।
মাশরুম চাষের উষ্ণ ও আর্দ্র ঘরে একাধিক প্রজাতি একই রোগ ঘটাতে পারে বলে একটি জীবাণু লক্ষ্য করে দেওয়া চিকিৎসা যথেষ্ট না-ও হতে পারে; চাষিদের দরকার হতে পারে আরও বিস্তৃত রোগ শনাক্তের পদ্ধতি। সহলেখক, উদ্ভিদরোগবিদ্যার সহকারী অধ্যাপক স্যামুয়েল মার্টিন্স বলেন, 'বছরের পর বছর এ রোগের চিকিৎসায় ফল মিলেছে অসমান।' পেন স্টেট, ডেলাওয়্যার বিশ্ববিদ্যালয় ও ইউএফ/আইএফএএস-এর একটি আলাদা ৭০ লাখ ডলারের মার্কিন কৃষি বিভাগের অনুদানে উন্নত রোগ নির্ণয় পদ্ধতি তৈরি হচ্ছে।
গবেষকেরা এখন রাসায়নিকের বিকল্প হিসেবে উদ্ভিদের সুগন্ধি তেল, উপকারী অণুজীব ও অন্যান্য জৈব পণ্য পরীক্ষা করছেন। খামারের বাস্তব পরিস্থিতিতে এগুলো কতটা কাজ করে, তা জানতে আরও গবেষণা লাগবে।
ছবি: Andrew Bossi / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 2.5)
সূত্র: সায়েন্সডেইলি





মন্তব্য
(০)