দক্ষিণ আফ্রিকায় আগাছানাশক সহনশীল (হার্বিসাইড রেজিস্ট্যান্ট) আগাছা খামারের উৎপাদনের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠছে। সম্প্রতি কর্টেভার এক কৃষক রোড শোতে শস্য সুরক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলেন, এর সমাধান ভালো কোনো একটি ওষুধ নয়, পুরো আগাছা দমনব্যবস্থা। বৈশ্বিক হার্বিসাইড রেজিস্ট্যান্স অ্যাকশন কমিটির হিসাবে বিশ্বে ১০০টির বেশি প্রজাতির আগাছায় কয়েক শ প্রতিরোধের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে।
কর্টেভার আগাছানাশক বিভাগের বিপণনপ্রধান ড. এলবে হুগো (Elbé Hugo) জানান, একই ধরনের কার্যপদ্ধতির ওষুধ বারবার দিলে সংবেদনশীল আগাছা মরে, কিন্তু স্বভাবগতভাবে সহনশীলগুলো বেঁচে থেকে বংশ বাড়ায়; কয়েক মৌসুমে তারাই দখল নেয়। স্বাধীন পরামর্শক ডার্ক উইস (Dirk Uys) বলেন, সোয়ার্টল্যান্ডের গমচাষিরা বছরের পর বছর সহনশীল রাইগ্রাস নিয়ে লড়ছেন, অথচ নতুন সক্রিয় উপাদান দিন দিন দুর্লভ, দামি ও তৈরি করা কঠিন হচ্ছে।
সিনজেন্টার আগাছানাশক বিভাগের কারিগরি প্রধান মারাইকি ক্রেভেন (Maryke Craven) বলেন, কোন ধরনের প্রতিরোধ, তা কৃষককে জানতে হবে। লক্ষ্যস্থানভিত্তিক প্রতিরোধে ওষুধ গাছের নির্দিষ্ট জায়গায় বসতেই পারে না, তাই মাত্রা বাড়িয়ে লাভ নেই; অন্য ধরনের প্রতিরোধে ওষুধ লক্ষ্যে পৌঁছাতেই বাধা পায়। তিনি সতর্ক করেন, এক খামার থেকে আরেক খামারে যন্ত্রপাতির সঙ্গে আগাছার বীজও ছড়ায়।
অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডিলেড বিশ্ববিদ্যালয়ের আগাছা ব্যবস্থাপনার অধ্যাপক ক্রিস প্রেস্টন (Chris Preston) নিজ দেশের অভিজ্ঞতা থেকে বলেন, ভিন্ন গ্রুপের ওষুধ পালাক্রমে দিলে চাপ কমে, কিন্তু একা তা যথেষ্ট নয়। শস্যপর্যায়, আচ্ছাদন ফসল, আগাছার বীজভান্ডার কমাতে কৌশলী চাষ, আর ঠিক সময়ে ও ঠিক ঘনত্বে বপন ফসলকে আগাছার চেয়ে এগিয়ে রাখে। ক্রপলাইফ সাউথ আফ্রিকার এলরিজা থেরন বলেন, প্রতিরোধ ব্যবস্থাপনা স্বল্পমেয়াদি খরচ নয়, দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ।
সিনজেন্টা সাউথ আফ্রিকার কৃষিতত্ত্বপ্রধান হানলি গেলডেনহুইস (Hanlie Geldenhuys) বলেন, অনেক প্রতিরোধ তৈরি হয় ভুল স্প্রেতে। তাঁর পরামর্শ: আগাছা ছোট ও সতেজ থাকতে স্প্রে করা, লেবেলের মাত্রা মেনে চলা, লেবেলে নেই এমন মিশ্রণ এড়ানো, স্প্রেযন্ত্র পরিষ্কার ও সচল রাখা, আর আগাছাকে বীজ ফেলতে না দেওয়া। ক্রেভেন যোগ করেন, বন্ধ নজলের মতো ত্রুটিতে কম মাত্রা পড়লে ধীরে ধীরে প্রতিরোধ গড়ে ওঠে।
বিশেষজ্ঞদের মত, প্রতিরোধের সন্দেহ হলে উপেক্ষা না করে বিকল্প দমন বা পরীক্ষার মাধ্যমে দ্রুত যাচাই করা দরকার, নইলে তা ছড়ায়; ক্ষতি আসে বাড়তি দমনখরচ, কম ফলন ও বাড়তি স্প্রেতে। প্রতিবেদনটি ফার্মার্স উইকলির জন্য লিখেছেন মাগদা দু তোয়া।
ছবি: নাসা, আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন (সোয়ার্টল্যান্ডের গমখেত) / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: ফার্মার্স উইকলি সাউথ আফ্রিকা




মন্তব্য
(০)