দক্ষিণ-পশ্চিম জার্মানির বনের মাটি বছর বছর বায়ুমণ্ডল থেকে আরও বেশি মিথেন সরিয়ে নিচ্ছে। গ্যোটিঙেন বিশ্ববিদ্যালয় (University of Göttingen) ও বাডেন-ভুর্টেমবার্গ বন গবেষণা ইনস্টিটিউটের (এফভিএ) গবেষকেরা সর্বোচ্চ ২৪ বছরের মাঠপর্যায়ের মাপজোখ বিশ্লেষণ করে এ তথ্য পেয়েছেন।
গবেষকদের ভাষায়, বনের মাটির মিথেন শোষণের দীর্ঘমেয়াদি মাপজোখের এটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় সংগ্রহ, যা ১৩টি বনাঞ্চল থেকে নেওয়া। গড়ে মাটির মিথেন শোষণ বছরে প্রায় ৩ শতাংশ বেড়েছে। গবেষকেরা এর সঙ্গে বৃষ্টি কমা ও তাপমাত্রা বাড়ার যোগসূত্র পেয়েছেন। গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে অ্যাগ্রিকালচারাল অ্যান্ড ফরেস্ট মেটিওরোলজি সাময়িকীতে।
তথ্য এসেছে এফভিএর দীর্ঘদিনের মাটির গ্যাস পর্যবেক্ষণ কর্মসূচি থেকে। প্রতি দুই সপ্তাহে মাটির বিভিন্ন গভীরতায় বসানো সরু নল দিয়ে বাতাসের নমুনা তুলে পরীক্ষাগারে বিশ্লেষণ করা হয়েছে। ফল যাচাই করতে মাটির ওপর বায়ুরোধী চেম্বার বসিয়ে ভেতরের গ্যাসের ঘনত্বের পরিবর্তন মেপে মাটি কতটা মিথেন সরাচ্ছে তা-ও হিসাব করা হয়।
ব্যাখ্যাটা মাটির ভেতরে গ্যাস চলাচলে। মাটি পানিতে ভরে গেলে কণার মাঝের সূক্ষ্ম ফাঁকগুলো পানি দখল করে, গ্যাস ঢুকতে পারে না। শুষ্ক মাটিতে বাতাসভরা ছিদ্র বেশি থাকে, তাই বায়ুমণ্ডলের মিথেন আরও গভীরে যায়, যেখানে অণুজীব একে শক্তির উৎস হিসেবে ব্যবহার করে ভেঙে ফেলে। তাপমাত্রা সামান্য বাড়লে অণুজীবের এই কাজও দ্রুত হয়।
গবেষণার নেতৃত্ব দেওয়া গ্যোটিঙেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ফসল বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মার্টিন মাইয়ার বলেন, তাঁদের দীর্ঘমেয়াদি তথ্য দেখাচ্ছে যে জলবায়ু পরিবর্তন বনের মাটির মিথেন শোষণে সব সময় নেতিবাচক প্রভাব ফেলে না। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় গবেষণায় বৃষ্টি বাড়ার কারণে মিথেন শোষণ সর্বোচ্চ ৮০ শতাংশ কমতে দেখা গিয়েছিল, আর তাঁদের মাঠ গবেষণায় দেখা গেছে উল্টোটা।
গবেষকেরা জোর দিয়ে বলেছেন, এর মানে এই নয় যে জলবায়ু পরিবর্তন বনের জন্য সামগ্রিকভাবে ভালো। মিথেন শোষণে এর প্রভাব স্থানীয় তাপমাত্রা, বৃষ্টিপাত ও মাটির অবস্থার ওপর নির্ভর করে, আর ধীরে ঘটা পরিবর্তন ধরতে দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষণ অপরিহার্য; স্বল্পমেয়াদি গবেষণা বা বিস্তৃত মেটা-বিশ্লেষণে তা চোখ এড়িয়ে যেতে পারে।
ছবি: Olga Ernst / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: সায়েন্সডেইলি





মন্তব্য
(০)