জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) ১৬ অক্টোবর বিশ্ব খাদ্য দিবসে আগাম পদক্ষেপ, উদ্ভাবনী ধারণা ও টেকসই অর্থায়নের আহ্বান জানিয়েছে। সংস্থাটি সতর্ক করেছে, সংঘাত, চরম আবহাওয়া ও বৈশ্বিক বাণিজ্যে বিঘ্ন লাখো পরিবারের নাগাল থেকে খাবার আরও দূরে সরিয়ে দিচ্ছে।
ডব্লিউএফপির হিসাবে, ২০২৬-২০২৭ সালের এল নিনো ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ ৪৫টি দেশে আরও ৪ কোটি ৯০ লাখ মানুষকে তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ঠেলে দিতে পারে। বড় উৎপাদনকারী দেশগুলোর চরম তাপ ও খরার সঙ্গে মিলে এসব ধাক্কা সেপ্টেম্বরে এফএওর খাদ্য মূল্যসূচককে প্রায় চার বছরের সর্বোচ্চে তুলেছে; সে মাসে ১৬টি দেশে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ছিল ১৫ শতাংশের ওপরে, জানুয়ারিতে যা ছিল ১০টি দেশে। গত বছর বিশ্বে প্রায় ২৬ কোটি ৬০ লাখ মানুষ তীব্র ক্ষুধার মুখে ছিল।
সংস্থাটি নৌপরিবহনের ‘ত্রিমুখী সংকটের’ কথাও বলেছে: হরমুজ ও বাব আল-মান্দাব প্রণালিতে উত্তেজনা এবং কৃষ্ণসাগরে সংঘাতের বিস্তার। এতে একই সঙ্গে খাদ্য উৎপাদন ও বাণিজ্য আঘাত পাচ্ছে, জ্বালানি, সার, পরিবহন ও খাবারের দাম বাড়ছে; ইয়েমেন, সুদান ও হর্ন অব আফ্রিকাগামী ডব্লিউএফপির পণ্যও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
এ বছরের বিশ্ব খাদ্য দিবসের প্রতিপাদ্য ‘আজ উদ্ভাবন, আগামীর পুষ্টি’। ডব্লিউএফপি বলছে, উদ্ভাবন তাদের দ্রুত ও কম খরচে মানুষের কাছে পৌঁছাতে সাহায্য করছে: খরা বা বন্যার আগেই সহায়তা চালু করা পূর্বাভাস, কয়েক দিনের মধ্যে পরিবারের হাতে সহায়তা পৌঁছানো ডিজিটাল ব্যবস্থা, আর যেখানে রাস্তা শেষ সেখানে পৌঁছানো উভচর যান। গত বছর তাদের উদ্ভাবন ৭৫টি দেশ ও অঞ্চলের ১৩ কোটি ২৫ লাখ মানুষের কাছে পৌঁছেছে।
ডব্লিউএফপির ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক কার্ল স্কাউ বলেন, বিশ্বে ক্ষুধা বাড়ার পেছনের চ্যালেঞ্জগুলোর বেশির ভাগই মানুষের তৈরি: বাড়তে থাকা সংঘাত, খাদ্য ও কৃষি বাণিজ্যে ত্রিমুখী সংকট আর ঘন ঘন চরম আবহাওয়া। তবে সমাধান আমাদের হাতেই আছে, বলেন তিনি।
ডব্লিউএফপির মতে, ক্ষুধা ঠেকানোর হাতিয়ার আগেই তৈরি আছে; বড় পরিসরে কাজে লাগানোর মতো অর্থ ও প্রবেশাধিকার পেলে তারা এমন ধাক্কা থেকে মানুষকে রক্ষা করতে পারবে, যা না হলে জনপদগুলোকে বছরের পর বছর পিছিয়ে দিত।
ছবি: Oxfam East Africa / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.0)
সূত্র: ডব্লিউএফপি





মন্তব্য
(০)