ইউএসডিএর তথ্য অনুযায়ী ২০২৪ সালে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৪ কোটি ৭২ লাখ ৪০ হাজার একর কৃষিজমির মালিক বা দীর্ঘমেয়াদি ইজারাদার ছিলেন, যা ব্যক্তিমালিকানাধীন কৃষি ও বনভূমির ৩.৬ শতাংশ। আমেরিকান ফার্ম ব্যুরো ফেডারেশনের অর্থনীতিবিদ কোল্টার ব্রাউন (Colter Brown)-এর এই বিশ্লেষণ প্রকাশ করেছে নর্দার্ন এগ নেটওয়ার্ক। ২০২৩ সালের ৪ কোটি ৪৯ লাখ একরের তুলনায় এটি প্রায় ২৩ লাখ ৪০ হাজার একর বা প্রায় ৩ শতাংশ বেশি, আর ২০১০ সালের ২ কোটি ৪৮ লাখ একরের তুলনায় প্রায় ৯০ শতাংশ বেশি, যদিও বৃদ্ধির গতি কমেছে।
তথ্যগুলো এসেছে ১৯৭৮ সালের কৃষি বিদেশি বিনিয়োগ প্রকাশ আইনে (এএফআইডিএ) ইউএসডিএর ফার্ম সার্ভিস এজেন্সির কাছে বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর বাধ্যতামূলক প্রতিবেদন থেকে। জরিমানা জমির বাজারমূল্যের ২৫ শতাংশ পর্যন্ত, কিন্তু ব্যবস্থাটি স্ব-প্রতিবেদনের ওপর নির্ভরশীল এবং প্রয়োগ দুর্বল ছিল; ইউএসডিএ প্রতিবেদনের আওতা বাড়ানো ও জরিমানা বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে। ১০ বছর বা তার বেশি মেয়াদের ইজারাও গোনা হয়, তাই বিদেশিদের হাতে থাকা প্রতিটি একর মানেই বিদেশি মালিকানা নয়।
জমির ব্যবহারই আসল বিষয়। মোটের প্রায় অর্ধেক, প্রায় ২ কোটি ২২ লাখ একর, বনভূমি; আবাদি জমি প্রায় ১ কোটি ৩৭ লাখ একর, বাকিটা মূলত চারণভূমি। নামের মধ্যে উইন্ড, সোলার, রিনিউয়েবল বা এনার্জি আছে এমন প্রতিষ্ঠানের হাতে ২০২৪ সালে ছিল ১ কোটি ৪২ লাখ একর, ২০১০ সালে যা ছিল ২৯ লাখ। ইউএসডিএ জানায়, বিদেশি বায়ুবিদ্যুৎ কোম্পানির সঙ্গে যুক্ত জমির ১ শতাংশেরও কম তারা সরাসরি কিনেছে, আর ইজারার পরও বেশির ভাগ জমিতে আগের চাষিই চাষ করেন।
কানাডার বিনিয়োগকারীদের হাতে ১ কোটি ৬১ লাখ একর, মোটের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ; ২০২৪ সালে তাঁরা যোগ করেছেন প্রায় ৭ লাখ ৮১ হাজার একর। নেদারল্যান্ডস, জার্মানি, ইতালি ও যুক্তরাজ্যের বিনিয়োগকারীদের হাতে আরও ১ কোটি ২৮ লাখ একর। চীনা বিনিয়োগকারীদের হাতে ছিল প্রায় ২ লাখ ৪৫ হাজার একর, যা ২০২৩ সালের চেয়ে প্রায় ৩০ হাজার একর বা ১১ শতাংশ কম এবং ব্যক্তিমালিকানাধীন কৃষিজমির ০.০২ শতাংশ; তবে বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, নিরাপত্তার প্রশ্নে আয়তনের চেয়ে জমির অবস্থান ও ব্যবহারই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
বিদেশিদের হাতে সবচেয়ে বেশি জমি টেক্সাসে, ৫৯ লাখ একর; আর অঙ্গরাজ্যের ব্যক্তিমালিকানাধীন কৃষিজমির অনুপাতে শীর্ষে মেইন, ২১.৩ শতাংশ, যার প্রায় সবই কাঠের বন। ২০২৪ সালে ৩৪টি অঙ্গরাজ্যে বিদেশিদের জমি বেড়েছে, ১২টিতে কমেছে; সবচেয়ে বেশি বেড়েছে নিউ মেক্সিকো, টেক্সাস, ওকলাহোমা, ওরেগন ও মিসিসিপিতে, আর একটি বিদেশি কাঠ কোম্পানি জমি কমানোয় নর্থ ক্যারোলাইনায় কমেছে ১ লাখ ৮১ হাজার একর।
বিশ্লেষণের শেষে বলা হয়েছে, কৃষক ও খামারিদের জন্য বড় প্রশ্ন হলো দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি ইজারা তাঁদের এলাকায় জমির ব্যবহার ও জমি পাওয়ার প্রতিযোগিতা কীভাবে বদলে দিচ্ছে; সে কারণে নির্ভুল ও কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা প্রতিবেদন ব্যবস্থা জরুরি।
ছবি: Don Graham (wind turbines in an Iowa cornfield) / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 2.0)
সূত্র: Northern Ag Network





মন্তব্য
(০)