প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের চলমান সমস্যার কথা বলে বিশ্বের সবচেয়ে বড় সার উৎপাদক নিউট্রিয়েন (Nutrien) ত্রিনিদাদ ও টোবাগোতে তাদের নাইট্রোজেন সার কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করেছে। উত্তর গোলার্ধের ক্রেতারা যখন শীতকালীন কেনাকাটায় নামছেন, তখনই সরবরাহে এই ধাক্কা এল বলে জানিয়েছে গ্লোবাল এগ্রিকালচার।
পয়েন্ট লিসাসের এই কারখানা ২০২৫ সালের অক্টোবরেও একবার বন্ধ হয়েছিল, বন্দরে প্রবেশে বিধিনিষেধ এবং কোম্পানির ভাষায় অনির্ভরযোগ্য ও অলাভজনক গ্যাস সরবরাহের কারণে। নিউট্রিয়েনের আপস্ট্রিম, নাইট্রোজেন ও নিজস্ব পণ্য পরিচালনার জ্যেষ্ঠ ভাইস প্রেসিডেন্ট ডিন পারকিনস নিশ্চিত করেছেন, এবারের বন্ধের কোনো শেষ তারিখ নেই। ত্রিনিদাদ দীর্ঘদিন ধরে উত্তর ও লাতিন আমেরিকার বাজারে অ্যামোনিয়া ও ইউরিয়ার বড় উৎস।
যুক্তরাষ্ট্রে খুচরা দাম আগে থেকেই বাড়ছিল। ৫ থেকে ৯ অক্টোবর খুচরা বিক্রেতাদের মধ্যে ডিটিএনের জরিপে তরল নাইট্রোজেন সার ইউএএন৩২-এর গড় দাম টনপ্রতি ৪৮৫ ডলার, এক মাসে ৬ শতাংশ বেশি। ইউরিয়া ৬৫৮ থেকে বেড়ে ৬৭২ ডলার, যা এক বছর আগের চেয়ে ১২ শতাংশ বেশি। ডিএপি ৯২৩ থেকে ৯৩৪ ডলার, বছরে ২ শতাংশ বেশি।
পটাশের দাম ৪৯৪ থেকে বেড়ে টনপ্রতি ৫০২ ডলার হয়েছে, ২০২৪ সালের আগস্টের দ্বিতীয় সপ্তাহের পর প্রথমবার ৫০০ ডলারের ওপরে, এক বছর আগের চেয়ে ৪ শতাংশ বেশি। ডিটিএন এর জন্য নির্দিষ্ট কোনো সরবরাহ ঘটনাকে দায়ী করেনি, তবে জানিয়েছে, তাদের পর্যবেক্ষণে থাকা আটটি প্রধান সারের সবকটির দাম এখন গত বছরের একই সময়ের চেয়ে বেশি।
ক্যারিবীয় অঞ্চলের বড় একটি নাইট্রোজেন কারখানা বন্ধ, ইউরিয়া ও ইউএএনের দাম ঊর্ধ্বমুখী আর পটাশ দুই বছরের সীমা ছাড়ানোয় আমেরিকায় পরবর্তী বড় সার প্রয়োগ মৌসুমের আগে বাজারে চাপ বাড়ছে বলে মনে করছে গ্লোবাল এগ্রিকালচার; কৃষ্ণসাগরে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন বা চীনের অপরিবর্তিত সার আমদানি কোটার প্রভাব এর বাইরে।
ছবি: Kalamazadkhan / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: গ্লোবাল এগ্রিকালচার





মন্তব্য
(০)