সিলেটের কৃষিপণ্য সংরক্ষণ ও প্যাকেজিংয়ের অভাবে রপ্তানির সুযোগ হাতছাড়া হচ্ছে বহুদিন। এবার প্রায় ৩৮০ কোটি টাকা ব্যয়ে সেখানে আধুনিক প্যাকিং হাউজ ও কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ইত্তেফাক জানায়, প্রকল্পের খসড়া উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) কৃষি মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে কৃষি বিপণন অধিদপ্তর।
সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পাশে বড়শালা এলাকায় প্রায় পাঁচ একর খাসজমিতে কমপ্লেক্সটি করার প্রস্তাব। জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন জানিয়েছেন, জায়গা নির্ধারণ হয়েছে। প্রস্তাবে রয়েছে ১ হাজার মেট্রিক টন ধারণক্ষমতার কোল্ড স্টোরেজ, প্যাকিং ও গ্রেডিংয়ের সুবিধা, মান যাচাইয়ের ১০টি পরীক্ষাগার, প্রশিক্ষণকেন্দ্র, সম্মেলনকক্ষ ও বিদেশি ক্রেতাদের অতিথি ভবন, সঙ্গে মান নিয়ন্ত্রণ ও সনদ দেওয়ার ব্যবস্থা।
সিলেটের গোয়ালগাদ্দা শিম, জারা লেবু ও নাগা মরিচ এখনই যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডাসহ নানা দেশে যায়, হাওরের দেশি মাছও রপ্তানি হয়। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. ফজলে এলাহী মোহাম্মদ ফয়সাল বলেন, প্রকল্প হলে ড্রাগন ফল, সাতকরা, তেজপাতা ও নাগা মরিচের উৎপাদন ও রপ্তানি বাড়ার সম্ভাবনা আছে; প্রক্রিয়াজাতকরণ চালু হলে ডেইরি ও পোলট্রি খামার গড়ার পথও খুলবে।
গত ২৩ সেপ্টেম্বর সিলেটে এক অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছিলেন, শ্যামপুরের প্যাকিং হাউজ ও কোল্ড স্টোরেজের আদলে সমীক্ষা করে দ্রুত কাজ শুরু হবে, প্রয়োজনে পরিধি বাড়ানো হবে। ঢাকা ও সিলেটের বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি কমিটি করা হয়েছে, যারা স্থান পরিদর্শন করে কৃষক, ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের সঙ্গে কথা বলে নকশা চূড়ান্ত করবে।
কমিটির আহ্বায়ক, কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগের উপপরিচালক জুলিয়া যেসমিন মিলি বলেন, হাওরের মাছ রপ্তানির জন্য সনদ সুবিধা ও একটি বিক্রয়কেন্দ্র যুক্ত করার প্রস্তাবও আছে। আন্তর্জাতিক বিধি মেনে রপ্তানির জন্য কৃষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে এবং চুক্তিভিত্তিক চাষ চালু হবে; এতে হাজারো মানুষের কর্মসংস্থান হবে বলে তিনি আশা করেন। প্রতিবেদনটি ইত্তেফাকের সিলেট প্রতিনিধির।
ছবি: Akhtar Owais Ahmed / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.0); সিলেটের রাস্তায় সাতকরা বিক্রি
সূত্র: ইত্তেফাক





মন্তব্য
(০)