পাহাড়ের আম, কলা, কাঁঠাল, আনারস, পেঁপে, আদা ও হলুদ রপ্তানিযোগ্য করতে মানসম্মত উৎপাদন ও উত্তম কৃষিচর্চার বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) ভাইস চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ হাসান আরিফ। শনিবার (১০ অক্টোবর) খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে কৃষিপণ্য রপ্তানিতে উদ্যোক্তা ও চাষিদের দক্ষতা বাড়ানোর দিনব্যাপী প্রশিক্ষণে তিনি এ কথা বলেন, জানিয়েছে বাংলাভিশন।
পরিবহন ব্যয় নিয়ে তিনি বলেন, পাহাড় থেকে সমতলে পণ্য আনতে সরকার নির্ধারিত টোল বা কর ছাড়া অন্য কোনো অননুমোদিত খরচ গ্রহণযোগ্য নয়; চাঁদাবাজি চললে কৃষকের উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয় বাড়বে এবং তাঁরা পুঁজি হারানোর ঝুঁকিতে পড়বেন। কৃষিপণ্যের বিপণন সহজ করতে ইপিবি সরকারের সঙ্গে কাজ করছে বলে জানান তিনি।
প্রশিক্ষণে রপ্তানির প্রক্রিয়া, আন্তর্জাতিক বাজার বিশ্লেষণ, বিদেশি ক্রেতা খোঁজা ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র নিয়ে আলোচনা করেন ইপিবির পরিচালক কুমকুম সুলতানা। কৃষিবিদেরা বলেন, উত্তম কৃষিচর্চার অভাব পাহাড়ি ফল রপ্তানির বড় বাধা; উৎপাদন, সংগ্রহ ও বিপণনের প্রতিটি ধাপে মান ধরে রাখতে হবে।
প্রান্তিক কৃষক আবু তাহের বলেন, পরিবহনে সরকারি টোলের চেয়ে অনেক বেশি টাকা চাঁদা দিতে হলে প্রান্তিক কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হন। বাগানমালিক এনামুল হক জানান, পাহাড়ে হিমাগার না থাকায় ন্যায্য দাম পাওয়া কঠিন; আম, কাঁঠাল, আনারস ও পেঁপে একসঙ্গে পাকায় বাজারে সরবরাহ বেড়ে দাম পড়ে যায়।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর আয়োজনে, উপজেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ ফ্রুটস অ্যান্ড ভেজিটেবলস অ্যাসোসিয়েশন, চট্টগ্রামের সহযোগিতায় প্রশিক্ষণটি হয়। সভাপতিত্ব করেন ইউএনও তাহমিনা আফরোজ ভুঁইয়া; বক্তব্য দেন উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা রিপন হোসেন এবং বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের চট্টগ্রাম কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. এ এস এম হারুনর রশিদ। প্রতিবেদনটি বাংলাভিশনের খাগড়াছড়ি প্রতিনিধির।
ছবি: Zahid al asad / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC0); পাহাড়ি আনারস
সূত্র: বাংলাভিশন





মন্তব্য
(০)