সিলেট অঞ্চলে প্রথমবারের মতো বাণিজ্যিকভাবে তুলা চাষ হয়েছে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে। উপজেলার আশিদ্রোন ইউনিয়নের সাইটুলা গ্রামে কৃষক তাপস কুমার কুর্মী পরীক্ষামূলকভাবে উচ্চফলনশীল ‘সিবি হাইব্রিড-১’ জাতের কার্পাস তুলা লাগিয়ে ভালো ফলনের আশা করছেন।
চলতি বছরের জুলাইয়ে প্রায় সাড়ে চার কেয়ার জমিতে বীজ বোনেন তিনি। জমি তৈরি, বীজ বপন ও পরিচর্যায় মোট খরচ হয়েছে প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা। তুলা উন্নয়ন বোর্ডের প্রাক্কলন অনুযায়ী, এই জমি থেকে প্রায় ৬০ মণ তুলা পাওয়ার আশা। মণপ্রতি চার হাজার টাকা দরে বিক্রি করতে পারলে প্রায় আড়াই লাখ টাকার তুলা বিক্রি হতে পারে।
তাপস কুমার কুর্মী বলেন, জমিতে তুলার গাছ ভালো হয়েছে, ফলন ভালো হলে চাষ আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা আছে তাঁর। শ্রীমঙ্গল উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসের উপসহকারী কর্মকর্তা মো. মাসুকুর রহমানও প্রাথমিক হিসাবে প্রায় ৬০ মণ উৎপাদনের আশা করছেন; তুলা চাষ বাড়াতে নতুন জমিও চিহ্নিত করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
তুলা উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা শুক দেব রায় জানান, শুরুতে অতিবৃষ্টির বাধা থাকলেও এখন প্রায় পাঁচ বিঘা জমিতে তুলার গাছ ভালো অবস্থায় আছে। কৃষকদের আগ্রহ দেখে আগামীতে প্রায় ৩০০ বিঘা জমিতে তুলা চাষের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. আলাউদ্দিন বলেন, কৃষি বিভাগ ও তুলা উন্নয়ন বোর্ডের যৌথ চেষ্টায় এ মৌসুমে আশানুরূপ ফলনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। এ অঞ্চলের উঁচু জমিতে তুলা চাষ সম্প্রসারণের সুযোগ আছে বলে মনে করেন তিনি।
তুলা উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, দেশে তুলার চাহিদার বড় অংশ আমদানি করে মেটানো হয়। তাই চা-বাগান আর ধানের জমির এলাকায় উঁচু জমিতে তুলার এই পরীক্ষা সফল হলে কৃষকের আয়ের নতুন পথ খোলার পাশাপাশি আমদানিনির্ভরতা কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে। এগ্রিকেয়ার২৪ প্রতিবেদনটি নিয়েছে বিডি গ্লোবাল টাইমস থেকে।
ছবি: Michael Bass-Deschenes / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.0)
সূত্র: এগ্রিকেয়ার২৪





মন্তব্য
(০)