ঝড়ের সময় পানি বেশি, খরার সময় পানি কম, ইউরোপের শহরগুলোতে এই দুই সংকট এখন বাড়ছে। দুটো সামলাতেই 'স্পঞ্জ সিটি' মডেলের দিকে ঝুঁকছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। ২০২৫ সালের পানি সহনশীলতা কৌশলে আরও স্পঞ্জ সিটি ও জলাভূমি পুনরুদ্ধারের ডাক দেওয়া হয়েছিল; এখন এসব গড়তে সহায়তার জন্য একটি 'স্পঞ্জ ফ্যাসিলিটি' তৈরি করছে জোটটি, জানিয়েছে ইউরোনিউজ।
স্পঞ্জ সিটিতে রাস্তা ও পাড়ায় সবুজ জায়গা, পানি চুইয়ে যেতে পারে এমন উপরিতল আর পানি জমানোর ব্যবস্থা যোগ করা হয়, যাতে বৃষ্টির পানি নালায় ছুটে না গিয়ে মাটিতে শোষিত হয়, জমা থাকে, আবার ব্যবহার করা যায়। এতে ঝড়ের সময় নর্দমার চাপ কমে, শুকনো মৌসুমে সেই পানি ভূগর্ভস্থ স্তর ভরাতে বা পার্কে সেচে কাজে লাগে; গাছপালা দাবদাহে রাস্তাও ঠান্ডা রাখে। প্রকৌশল পরামর্শক প্রতিষ্ঠান আরুপের (Arup) ফেলো ও ইউরোপে পানি বিষয়ক কাজের নেতৃত্বে থাকা জাস্টিন অ্যাবট (Justin Abbott) বলেন, শহর খাপ খাওয়ানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায়গুলোর একটি হলো বৃষ্টিকে বর্জ্য ভাবা শত বছরের নগর নকশা উল্টে দিয়ে একে মূল্যবান সম্পদ হিসেবে দেখা।
ধারণাটি ২০০০-এর দশকের শুরুতে দেন চীনের ভূদৃশ্য স্থপতি কংজিয়ান ইউ (Kongjian Yu); নদীতে পৌঁছানোর আগেই পুকুর, জলাভূমি আর গাছ লাগানো নালায় বৃষ্টি ধরে রাখার প্রস্তাব ছিল তাঁর। ২০১২ সালে বেইজিংয়ে বন্যায় ৭৯ জনের মৃত্যুর পর চীন ২০১৪ সালে জাতীয় নির্দেশিকা গ্রহণ করে, উহান, শিয়ামেন ও চংকিংসহ ১৬ শহরে পরীক্ষামূলক কর্মসূচি শুরু করে এবং ২০১৬ সালে সাংহাই ও শেনজেনসহ আরও ১৪টি শহর যোগ করে। ২০৩০ সালের মধ্যে শহুরে নির্মিত এলাকার ৮০ শতাংশকে স্পঞ্জ সিটি হিসেবে কার্যকর করার লক্ষ্য দেশটির।
ইউরোপেও উদাহরণ আছে। ১৯৯৮ থেকে ২০০২ সালের মধ্যে সুইডেনের মালমো শহরের অগাস্টেনবর্গ (Augustenborg) এলাকায় সবুজ ছাদ, জলাভূমি, পানি ধরে রাখার পুকুর আর ছয় কিলোমিটার খোলা নালা বসানো হয়; ২০০৭ ও ২০১৪ সালের ঝড়ে অন্য এলাকার চেয়ে সেখানে বন্যার ক্ষতি অনেক কম হয়। নেদারল্যান্ডসের রটারডামে ২০১৩ সালে চালু বেনথেমপ্লেইন (Benthemplein) জল-চত্বর শুকনো দিনে বাস্কেটবল কোর্ট, আর ভারী বৃষ্টিতে এর তিনটি গর্তে ১৭ লাখ লিটার পর্যন্ত পানি ধরে। এক বছর পর চালু কোপেনহেগেনের টসিঙ্গে প্লাডস (Tåsinge Plads) আশপাশের ছাদের পানি মাটির নিচের আধার ও রেইন গার্ডেনে জমায়।
সংরক্ষিত ভবন, সরু রাস্তা আর মাটির নিচের লাইনের কারণে পুরোনো শহরকেন্দ্রে এমন রূপান্তর কঠিন। তবে অ্যাবটের মতে, এটা বসে থাকার নয়, আরও ভেবে জায়গা বাছাইয়ের কারণ। উঠানের পাকা মেঝে তুলে ফেলা, গাছ লাগানো আর সবুজ ছাদের মতো ছোট পদক্ষেপের কথা বলেন তিনি।
স্পঞ্জ ব্যবস্থার সীমাও আছে। চরম ঝড়ে মাটি ভিজে পূর্ণ হয়ে যায়, আধারও ভরে যায়, যা ২০২৪ সালে স্পেনের ভ্যালেন্সিয়ার বন্যায় দেখা গেছে। তাই শহরের প্রচলিত নিষ্কাশন, বড় জলাধার আর বন্যার পানি সরানোর পরিকল্পিত পথও লাগবে। অ্যাবট বলেন, কর্তৃপক্ষ, পানি সরবরাহ প্রতিষ্ঠান, আবাসন নির্মাতা ও জমির মালিক সবারই বৃষ্টির পানি ব্যবস্থাপনার দায় আছে; শহরের পরিকল্পনা ও নকশায় পানিকে আগে রাখতে হবে।
প্রতিবেদনটি লিখেছেন ইউরোনিউজের ক্রেগ সাউয়ার্স (Craig Saueurs)।
ছবি: Niklas.nilsson / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: ইউরোনিউজ





মন্তব্য
(০)