বসন্তকালীন বার্লির আগে জমিতে ফিল্ড বিন বা মাঠের শিম চাষ করলে বার্লির সার ব্যবহার ও পরিবেশগত প্রভাব কমে, বেশির ভাগ বছরে ফলনও বাড়ে। স্কটল্যান্ডের ডান্ডির কাছে বালরুডারি খামারে হাটন ইনস্টিটিউটের সেন্টার ফর সাসটেইনেবল ক্রপিংয়ের (সিএসসি) দীর্ঘমেয়াদি গবেষণার তথ্য বিশ্লেষণে এমন ফল মিলেছে, জানিয়েছে ফার্মার্স উইকলি। বিজ্ঞানীরা শিমের পর বোনা বার্লির সঙ্গে বার্লির পর বোনা বার্লির তুলনা করেছেন।
সিএসসির গবেষণার নেতৃত্বে থাকা ড. ক্যাথি হাওয়েস (Cathy Hawes) জানান, শিমের পর বোনা বার্লিতে রাসায়নিক নাইট্রোজেন সার গড়ে হেক্টরে ২২ কেজি কম লেগেছে। ফসলের পরিবেশগত ছাপের আরেক বড় উৎস কীটনাশকের ব্যবহারও শিমের পর উল্লেখযোগ্যভাবে কম হতে পারে।
দুই বছরের পাঁচটি চাষচক্রের চারটিতে আগে শিম লাগানোয় বার্লি উৎপাদনের পরিবেশগত প্রভাব কমেছে। সব চক্রের গড়ে এই প্রভাব কমেছে প্রায় ২৫ শতাংশ।
উৎপাদনেও লাভ দেখা গেছে: পাঁচ বছরের চার বছরে শিমের পরের বার্লি বার্লির পরের বার্লির চেয়ে গড়ে হেক্টরে ১.২ টন বেশি ফলন দিয়েছে। তবে গবেষকেরা সতর্ক করেছেন, শিম মানেই বেশি ফলনের নিশ্চয়তা নয়। ২০২২ সালের অস্বাভাবিক শুকনো মৌসুমে শিমের পরের বার্লির ফলন কম হয়েছিল। আবহাওয়া, বিশেষ করে তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা, এবং আগের শিম ফসল কেমন হয়েছে, তার ওপর পরের দানাশস্যের লাভ অনেকটা নির্ভর করে বলে গবেষণায় ইঙ্গিত মিলেছে।
স্কটল্যান্ডে এই ফলাফলের গুরুত্ব বেশি, কারণ সেখানে বসন্তকালীন বার্লির ওপর বিয়ার তৈরি, পাতন ও পশুপালন শিল্প দাঁড়িয়ে আছে। শিম-বার্লি পর্যায়ক্রম আরও ছড়ালে গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমতে পারে বলে গবেষণার উপসংহার।
প্রতিবেদনটি লিখেছেন ফার্মার্স উইকলির রিচার্ড অ্যালিসন (Richard Allison)।
ছবি: Acabashi / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: Farmers Weekly





মন্তব্য
(০)