মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সম্প্রতি জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন, প্রতি উপজেলায় চারজন করে ভেটেরিনারি সার্জন এবং প্রতিটি ইউনিয়নে একজন করে ভেটেরিনারিয়ান নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে। এই ঘোষণাকে কাজে রূপ দিতে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা, পদ সৃষ্টি, বাজেট ও সময় বেঁধে নিয়োগের পাশাপাশি একটি বিশেষ বিসিএস আয়োজনের পক্ষে যুক্তি দিয়েছেন প্রফেসর ড. মো. বাহানুর রহমান ও ডা. আর এস মাহমুদ হাসান। ইত্তেফাকে প্রকাশিত তাঁদের লেখার মূল কথা এখানে।
লেখকদের মতে, প্রাণিসম্পদ খাত এখন শুধু দুধ, ডিম ও মাংস উৎপাদন নয়; পুষ্টিনিরাপত্তা, গ্রামীণ অর্থনীতি, কর্মসংস্থান ও জনস্বাস্থ্যের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। জলাতঙ্ক, ব্রুসেলোসিস, অ্যানথ্রাক্স, সালমোনেলোসিস, অ্যাভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা ও নিপাহর মতো প্রাণী থেকে মানুষে ছড়ানো রোগ নিয়ন্ত্রণে এবং প্রাণী, মানুষ ও পরিবেশের স্বাস্থ্য একসঙ্গে দেখার ‘ওয়ান হেলথ’ ধারণা মাঠে নিতে দক্ষ ভেটেরিনারি জনবল অপরিহার্য।
বিশেষ বিসিএসের নজিরও তাঁরা মনে করিয়ে দিয়েছেন। ১৯৯৮ সালের ১৯তম বিশেষ বিসিএসে (লাইভস্টক) সরকারি কর্ম কমিশনের বিজ্ঞপ্তিতে ৫৮৭টি শূন্যপদ ছিল, এর মধ্যে ভেটেরিনারি সার্জন, থানা লাইভস্টক অফিসার ও প্রভাষক পদে ৫১৯টি। শেষ পর্যন্ত নিয়োগ পান ৫৫৫ জন, ভেটেরিনারি থেকে ৪৭৫ জন ও অ্যানিম্যাল হাজবেন্ড্রি থেকে ৮০ জন।
তখনকার তুলনায় ভেটেরিনারি শিক্ষা অনেক বেড়েছে। বাংলাদেশ ভেটেরিনারি কাউন্সিলের ৩০ জুলাই ২০২৫ তারিখের তালিকায় ১৫টি ভেটেরিনারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আছে। ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে ডিভিএম, ভেটেরিনারি সায়েন্স অ্যান্ড অ্যানিম্যাল হাজবেন্ড্রি ও অ্যানিম্যাল হাজবেন্ড্রি ডিগ্রিতে মোট ১ হাজার ২৯৮টি আসন: ডিভিএমে ৫১৫টি, সমন্বিত ডিগ্রিতে ৭৩৩টি ও অ্যানিম্যাল হাজবেন্ড্রিতে ৫০টি। তবে আসন আর প্রতিবছর কর্মক্ষেত্রে আসা স্নাতক এক নয়, তাই লেখকেরা পদ, শূন্যপদ, অবসর ও মাঠের চাহিদা মিলিয়ে হিসাব করার কথা বলেছেন।
তাঁদের প্রস্তাব, কোন উপজেলায় কতজন ভেটেরিনারি সার্জন কাজ করছেন, কত পদ শূন্য, কোথায় অনুমোদিত পদই নেই এবং সামনের কয়েক বছরে কতজন অবসরে যাবেন, সেই তথ্য বিশ্লেষণ করে নতুন পদ, শূন্যপদ পূরণ ও প্রয়োজনে বিশেষ বিসিএসের সিদ্ধান্ত নেওয়া হোক। সমন্বিত ভেটেরিনারি সায়েন্স অ্যান্ড অ্যানিম্যাল হাজবেন্ড্রি ডিগ্রিকে বিএলআরআই ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরসহ সব সরকারি নিয়োগবিধিতে স্পষ্টভাবে রাখার দাবিও করেছেন তাঁরা।
লেখকদের মতে, নিয়োগ দিলেই কাজ ফুরায় না। উপজেলা ও ইউনিয়নের সেবাকেন্দ্রে ওষুধ, রোগনির্ণয়ের সরঞ্জাম, পরীক্ষাগার, যানবাহন, জরুরি চিকিৎসাসামগ্রী ও কৃত্রিম প্রজননের সুবিধা লাগবে; রোগ নজরদারি ও টিকাদানে স্থানীয় প্রশাসন, স্বাস্থ্য ও প্রাণিসম্পদ বিভাগের সমন্বয় লাগবে। পোলট্রি, ডেইরি, প্রাণিখাদ্য, ওষুধ ও ভ্যাকসিন খাতে বেসরকারি কর্মসংস্থানও বাড়ানো দরকার, তবে তা সরকারি নিয়োগের বিকল্প নয়।
লেখক প্রফেসর ড. মো. বাহানুর রহমান ও ডা. আর এস মাহমুদ হাসান। মতামত লেখকদের নিজস্ব।
ছবি: U.S. Navy / Tyler J. Wilson / উইকিমিডিয়া কমন্স (Public domain)
সূত্র: ইত্তেফাক





মন্তব্য
(০)