মা ইলিশ রক্ষায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ফেনীর মাছের বাজারে শত শত মণ পচা ইলিশ বিছিয়ে রাখার খবর দেখে প্রশ্ন তুলেছেন প্রফেসর ড. মো. ফখরুল ইসলাম। জাগো নিউজে প্রকাশিত কলামে তিনি জানতে চেয়েছেন, রাত ১২টায় জেলেরা নদীতে নামার পর ভোর হওয়ার আগেই এত মাছ এল কোথা থেকে।
লেখক মনে করিয়ে দেন, ২০২৬ সালে ৮ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত মাছ ধরা, পরিবহন, মজুত ও বেচাকেনার ওপর নিষেধাজ্ঞা ছিল, আর এ সময় মৎস্য বিভাগ, জেলা প্রশাসন, নৌপুলিশ ও কোস্টগার্ডের অভিযান চালানোর কথা।
তবে তাঁর সতর্কতা, স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য ছাড়া কাউকে দায়ী করা যাবে না। নিষেধাজ্ঞার পরে মাছ পাওয়া মানেই তা অবৈধভাবে ধরা, এমন সিদ্ধান্তও ঠিক নয়; বৈধ সময়ে ধরা মাছও ঠিকমতো রাখা না হলে পচতে পারে। তাই দরকার অনুমাননির্ভর দোষারোপ নয়, তথ্যভিত্তিক তদন্ত।
লেখকের প্রস্তাব, এত মাছ রাখতে বড় আড়ত, গুদাম, বরফকল বা হিমাগার লাগে; তাই শুধু জেলেদের জিজ্ঞাসাবাদ নয়, নৌকার মালিক, অর্থদাতা, আড়তদার, ক্রেতা ও পরিবহনকারীদেরও খোঁজ নিতে হবে। চালান, কেনাবেচার হিসাব ও হিমাগারের নথি দেখলে অবৈধ সরবরাহশৃঙ্খলের সন্ধান মিলতে পারে। মাছের নমুনা পরীক্ষা ও সংরক্ষণস্থল পরিদর্শনে পচনের কারণও জানা যাবে।
ইলিশ দ্রুত পচনশীল, তাই ধরার পরপরই বরফ, ঠিক তাপমাত্রা ও স্বাস্থ্যবিধি জরুরি। পচা মাছ নদী, খাল বা নর্দমায় ফেলা হলে পরিবেশদূষণ ও জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকিও তৈরি হয়, সেটিও খতিয়ে দেখতে বলেছেন তিনি।
তাঁর মতে, কত নৌকা ফেরানো হলো বা কত মিটার জাল জব্দ হলো, তা দিয়ে ইলিশ সংরক্ষণের সাফল্য মাপা যায় না; আসল সাফল্য মা ইলিশের প্রজনন রক্ষা, জেলেদের জীবিকা আর বাজারে নিরাপদ মাছ। নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে নদী-সাগরের পাশাপাশি পরিবহন, মজুত ও বাজারেও নজরদারি দরকার। লেখাটি প্রফেসর ড. মো. ফখরুল ইসলামের; মতামত লেখকের নিজস্ব।
ছবি: Gouriband / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: জাগো নিউজ ২৪





মন্তব্য
(০)