মসজিদ যেন দিনে আধা ঘণ্টার উপাসনালয়ে সীমাবদ্ধ না থেকে আবার সমাজ গড়ার কেন্দ্র হয়ে ওঠে, সেই আহ্বান জানিয়েছেন আলেম, লেখক ও প্রোগ্রামার আবদুল্লাহিল বাকি। প্রথম আলোর ধর্ম পাতায় প্রকাশিত লেখায় তিনি মসজিদের নয়টি ভূমিকা তুলে ধরেছেন।
লেখক মনে করিয়ে দেন, হিজরতের সফরে মহানবী (সা.) কোবায় প্রথম যাত্রাবিরতির জায়গাতেই মসজিদে কোবার ভিত্তি দেন, আর মদিনায় পৌঁছে তাঁর উটনি যেখানে বসে পড়ে, সেখানে গড়েন মসজিদে নববি (ইবনে হিশাম, আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ)। তাঁর মতে, মুসলিমের জ্ঞানচর্চার প্রথম প্রাতিষ্ঠানিক সূচনাও মসজিদ থেকে।
প্রথম তিনটি ভূমিকা জ্ঞান ও ইবাদতের: পাঁচ ওয়াক্ত, জুমা, সূর্য ও চন্দ্রগ্রহণের নামাজ এবং ইস্তিসকার জমায়েতের কেন্দ্র হওয়া; নিয়মিত ‘ইলমি হালাকা’ বা পাঠচক্র চালানো, যাতে মানুষ হালাল-হারাম ও কল্যাণ-অকল্যাণের পার্থক্য শেখে; আর জুমার খুতবা ও ছোট আলোচনার মাধ্যমে সমকালীন বিষয়ে গণশিক্ষা দেওয়া।
পরের ভূমিকাগুলো সমাজের: যাঁরা জামাতে আসেন না, তাঁদের বাড়িতে গিয়ে আন্তরিকভাবে খোঁজ নেওয়া; মহল্লার প্রতিটি পরিবারের খোঁজ রেখে ধনী-দরিদ্রের সেতু গড়া এবং জাকাত ও দান মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়া স্বচ্ছভাবে অভাবীর ঘরে পৌঁছানো; আর সালামের প্রসারের মধ্য দিয়ে মুসল্লিদের ভ্রাতৃত্ব গড়া। এ প্রসঙ্গে তিনি সহিহ মুসলিমের (হাদিস: ৫৪) সালাম প্রসারের হাদিসটি উদ্ধৃত করেছেন।
সপ্তম ও অষ্টম ভূমিকা নৈতিকতার: খুতবায় উত্তম চরিত্রের মর্যাদা তুলে ধরা (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৪৮০০) এবং কাউকে শুধরে দিতে হলে কর্কশ নয়, মার্জিত ভাষায় বলা। মসজিদে প্রস্রাব করা এক বেদুইনের প্রতি মহানবী (সা.)-এর কোমল আচরণের ঘটনাটি তিনি উদাহরণ হিসেবে এনেছেন।
নবম ভূমিকা শিশুদের প্রতি স্নেহ। জুমার খুতবার সময় শিশু হাসান ও হোসাইন টলমল পায়ে মসজিদে এলে মহানবী (সা.) খুতবা থামিয়ে তাঁদের কোলে তুলে নিয়েছিলেন (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ৩৭৭৪)। ইবনে হাজার আসকালানির ব্যাখ্যা উদ্ধৃত করে লেখক বলেন, শিশুদের মসজিদে আনা বৈধ এবং তাদের প্রতি মমতাই শিক্ষা।
লেখক শেষে বলেছেন, মসজিদের সংস্কার ও পরিচালনায় এমন মনোযোগ দরকার, যাতে তা সমাজ বিনির্মাণের বহুমাত্রিক ভূমিকায় ফিরে আসে। লেখাটি আবদুল্লাহিল বাকির; মতামত লেখকের নিজস্ব।
ছবি: Ferdous / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: প্রথম আলো




মন্তব্য
(০)