নিজের প্রয়োজন, পরিবারের দায়িত্ব আর ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তার জন্য মানুষ অর্থ সঞ্চয় করে। দেশ রূপান্তরের ইসলাম পাতায় আইনাল হক লিখেছেন, ইসলাম হালাল উপার্জন, পরিমিত ব্যয় ও ভবিষ্যতের জন্য সম্পদ সংরক্ষণে উৎসাহ দিয়েছে; একই সঙ্গে কৃপণতা, অপচয়, সুদ ও অন্যের সম্পদ অন্যায়ভাবে ভোগ করা নিষেধ করেছে।
লেখকের ব্যাখ্যায়, ইসলামে সঞ্চয় একটি আমানত: আল্লাহর দেওয়া সম্পদ নষ্ট না করে যথাযথ ব্যবহার ও সংরক্ষণও ইবাদতের অংশ। তবে সঞ্চয় হতে হবে বৈধ পথে, রিবা বা সুদের মাধ্যমে নয়। তিনি সুরা বাকারার ২৭৬ নম্বর আয়াত উদ্ধৃত করেন: ‘আল্লাহ সুদ ধ্বংস করেন এবং দানকে বৃদ্ধি করেন।’ ইসলামি অর্থনীতির ভিত্তি ভারসাম্য, অতিব্যয় যেমন নিরুৎসাহিত, তেমনি অর্থ পুরোপুরি আটকে রাখাও।
পরিশ্রম ও নিজ হাতে উপার্জনের গুরুত্ব বোঝাতে লেখক সুরা জুমার ১০ নম্বর আয়াত এবং সহিহ বুখারির হাদিস উল্লেখ করেছেন, যেখানে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, নিজ হাতে উপার্জিত খাদ্যের চেয়ে উত্তম খাদ্য নেই। সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রা.)-এর ঘটনায় নবীজি (সা.) সম্পদের এক-তৃতীয়াংশের বেশি সদকা করতে নিষেধ করে বলেন, উত্তরাধিকারীদের অভাবমুক্ত রেখে যাওয়া তাদের পরমুখাপেক্ষী রেখে যাওয়ার চেয়ে উত্তম।
বিনিয়োগের জন্য সঞ্চয় উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বাড়ায়, তবে খাত বাছতে হবে ইসলামের নির্দেশনা মেনে, যেখানে সুদ বা হারামের মিশ্রণ নেই। যে উদ্দেশ্যেই সঞ্চয় হোক, সঞ্চিত সম্পদ জাকাতের নেসাব পরিমাণ হয়ে পূর্ণ এক বছর পেরোলে জাকাত দিতে হবে, এবং অন্যের সম্পদ অন্যায়ভাবে জমানো থেকে বিরত থাকতে হবে।
প্রতিবেদন: আইনাল হকের লেখা, দেশ রূপান্তর।
সূত্র: দেশ রূপান্তর



মন্তব্য
(০)