কোরাইশদের বাণিজ্য-কাফেলার সঙ্গে চাচা আবু তালিবের সফরসঙ্গী হয়ে বারো বছর বয়সে শামের পথে বেরিয়েছিলেন মুহাম্মদ (সা.)। সুনানে তিরমিজির ৩৬২০ নম্বর হাদিসে সেই সফরে বুহাইরা পাদরির সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং একটি গাছের ছায়া তাঁর দিকে ঝুঁকে পড়ার বর্ণনা আছে। প্রথম আলোর ইসলাম পাতায় মুহাম্মদ তাজাম্মুল হক সেই সফর ও গাছটির ইতিহাস তুলে ধরেছেন।
আরবেরা হিজাজ থেকে পূর্বমুখী দাঁড়ালে বাঁ দিকের ভূখণ্ড, বর্তমান সিরিয়া, জর্ডান ও লেবাননের বিস্তীর্ণ অঞ্চলকে শাম বলত। নবীজির প্রপিতামহ হাশিম ইবনে আবদি মানাফ কোরাইশদের জন্য শীতে ইয়েমেন আর গ্রীষ্মে শামে বাণিজ্যযাত্রার রীতি চালু করেন, যাকে কোরআনে ‘ইলাফে কোরাইশ’ বলা হয়েছে (সুরা কুরাইশ, আয়াত ১-২)। গ্রীষ্মের কাফেলার বেশির ভাগ যেত শামের বুসরা ও গাজার দিকে।
তিরমিজির বর্ণনা অনুযায়ী, কাফেলা পাদরির মঠের কাছে তাঁবু ফেললে পাদরি বেরিয়ে এসে বালক মুহাম্মদ (সা.)-এর হাত ধরে তাঁকে বিশ্বজগতের প্রতি করুণা হিসেবে প্রেরিত হবেন বলে জানান। তিনি সবাই আগে গাছের ছায়ায় বসে পড়ার পর নবীজি এলে ছায়া তাঁর দিকে ঝুঁকে পড়তে দেখান, এবং রোমানদের হাতে বিপদের আশঙ্কায় অনুরোধ করেন তাঁকে যেন আর সামনে নেওয়া না হয়। পরে আবু তালিব তাঁকে ফেরত পাঠান; ফলে নবীজি সে যাত্রায় বুসরা পর্যন্ত পৌঁছাননি।
লেখায় বলা হয়েছে, গাছটি জর্ডানের রাজধানী আম্মান থেকে ১৫০ কিলোমিটার দূরে আল-আজরাক ও আল-সাফাওয়ি শহরের মাঝে আল-বাকিআউইয়্যাহ নামের স্থানে, আল-মাফরিক শহর থেকে ৯০ কিলোমিটার দূরে। বিস্তীর্ণ মরুপ্রান্তরে এটিই একমাত্র সজীব বড় গাছ; ছায়া ছড়ায় ৫০ মিটার পর্যন্ত, উচ্চতা ১১ মিটার, জায়গা নিয়েছে ২৮৩ বর্গমিটার। অদূরে একটি ভবনের ধ্বংসাবশেষকে বুহাইরা পাদরির গির্জা বলে ধারণা করা হয়।
পাকিস্তানের মুফতি তাকি ওসমানির ভ্রমণকাহিনি ‘জাহানে দিদাহ’-র উদ্ধৃতি দিয়ে লেখক জানান, ২০১০ সালের সেপ্টেম্বরে জর্ডানের বাদশাহর উপদেষ্টা প্রিন্স গাজি ইবনে মুহাম্মদের নেতৃত্বে কয়েকজন আলেমের সঙ্গে তিনি গাছটির স্থানে যান। প্রিন্স গাজি তাঁদের বলেছিলেন, সম্ভবত উসমানীয় খেলাফতের যুগের দলিলে তিনি গাছটির উল্লেখ পান এবং সেই সূত্র ধরে স্থানটি খুঁজে বের করেন।
প্রতিবেদন: মুহাম্মদ তাজাম্মুল হকের লেখা, প্রথম আলো।
ছবি: Dinalahmad / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: প্রথম আলো



মন্তব্য
(০)