ইসলামের দৃষ্টিতে বিশ্বজগতের সবকিছুর মালিক মহান আল্লাহ। মানুষ পৃথিবীর সম্পদ ভোগ করতে পারে, কিন্তু তা ধ্বংস করার অবাধ অধিকার কারও নেই। ডেইলি বাংলাদেশের ধর্ম বিভাগের এক লেখায় বলা হয়েছে, প্রকৃতি ও পরিবেশ রক্ষা শুধু সামাজিক দায়িত্ব নয়, আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য তা করা ইবাদতের অংশ হতে পারে।
লেখাটিতে সুরা আরাফের ৩১ নম্বর আয়াত উদ্ধৃত হয়েছে: খাও, পান করো, কিন্তু অপচয় কোরো না; নিশ্চয়ই আল্লাহ অপচয়কারীদের পছন্দ করেন না। একই সুরার ৫৬ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, পৃথিবীতে শান্তি স্থাপনের পর সেখানে বিপর্যয় সৃষ্টি কোরো না। এ থেকে প্রাকৃতিক সম্পদের যথাযথ ব্যবহার আর পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষাকে মানুষের দায়িত্ব হিসেবে দেখানো হয়েছে।
নদীদূষণ, জলাশয়ে অপরিশোধিত বর্জ্য ফেলা, অতিরিক্ত রাসায়নিকে মাটির ক্ষতি আর অবৈধভাবে বন উজাড়ে মানুষসহ নানা প্রাণী ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাই এসব থেকে বিরত থাকাকে প্রত্যেকের দায়িত্ব বলা হয়েছে।
সব সৃষ্টির প্রতি সদয় আচরণের শিক্ষা নিয়ে সুনানে নাসায়ির (হাদিস: ৪৪০৫) একটি বর্ণনা উদ্ধৃত হয়েছে, যেখানে শাদ্দাদ ইবনে আউস (রা.) জানান, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আল্লাহ প্রত্যেক বস্তুর প্রতি সদয় আচরণ ফরজ করেছেন। অকারণে প্রাণী ও প্রকৃতির প্রতি নিষ্ঠুরতা তাই ইসলামের আদর্শের পরিপন্থী।
কৃষকের জন্য বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক সহিহ বুখারির (হাদিস: ২৩২০) একটি হাদিস: আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত, কোনো মুসলিম গাছ লাগালে বা ফসল ফলালে তা থেকে মানুষ, পাখি বা অন্য কোনো প্রাণী কিছু খেলে তা তার জন্য সদকা হিসেবে গণ্য হয়। লেখাটির ব্যাখ্যা, কাজের কল্যাণ অন্য জীবের কাছে পৌঁছালেও তা সওয়াবের কারণ হতে পারে।
সূত্র: ডেইলি বাংলাদেশ




মন্তব্য
(০)