"কুকুর পোষা পাপ, বিড়াল পোষা সুন্নত": প্রচলিত এই কথার ভিত্তি কী, তা নিয়ে প্রথম আলোর ধর্ম ডেস্ক হাদিস ও ফিকহের বরাতে বিশ্লেষণ প্রকাশ করেছে। মূল কথা, ইসলাম সব সৃষ্টির প্রতি দয়ার শিক্ষা দেয়, আর প্রাণী পালনে ভারসাম্যপূর্ণ নীতি রয়েছে।
কুকুর: বিনা প্রয়োজনে শখ বা আভিজাত্যের জন্য ঘরের ভেতর কুকুর রাখা নিষিদ্ধ। সহিহ বুখারির হাদিসে (৩২২৫) এসেছে, যে ঘরে কুকুর বা প্রাণী ও মানুষের ছবি থাকে, সেখানে রহমতের ফেরেশতা প্রবেশ করেন না। সহিহ মুসলিমের হাদিসে (১৫৭৫) শিকার বা গবাদিপশু পাহারার উদ্দেশ্য ছাড়া কুকুর পোষার কারণে প্রতিদিন দুই কিরাত পুণ্য কমে যাওয়ার কথা আছে।
তবে ঢালাওভাবে কুকুর পোষা পাপ, এমন নয়। আত্মরক্ষা, ফসল পাহারা, গবাদিপশুর নিরাপত্তা, অপরাধী শনাক্ত ও শিকারের প্রয়োজনে কুকুর পালনের অনুমতি আছে; সুরা মায়িদার ৪ নম্বর আয়াতে শিকারি প্রাণীর ধরে আনা শিকার খাওয়ার কথা এসেছে। ফিকহের গ্রন্থ রদ্দুল মুহতার অনুযায়ী, এমন ক্ষেত্রেও কুকুরকে থাকার ঘরের বাইরে আলাদা জায়গায় রাখতে হবে। আর ঘরে রাখা নিষেধ মানে কুকুরকে ঘৃণা বা কষ্ট দেওয়া নয়: পিপাসার্ত কুকুরকে পানি পান করিয়ে এক নারীর ক্ষমা পাওয়ার ঘটনা সহিহ বুখারিতে (৩৩২১) বর্ণিত।
বিড়াল: সুনানে আবু দাউদের হাদিসে (৭৫) এসেছে, বিড়াল অপবিত্র নয়, এরা আশপাশেই ঘোরাফেরা করে। বিড়ালছানাকে আদর করার জন্য সাহাবি আবদুর রহমানকে "আবু হোরাইরা" ডাকা হতো। ইমাম নববির ব্যাখ্যায় বিড়াল পালন বৈধ (মোবাহ), এবং খাবার-পানি দিয়ে যত্ন নিলে সওয়াব মেলে। কিন্তু বিড়াল পোষা সুন্নত, এমন কথা কোথাও বলা হয়নি।
যত্নের দায়: বিড়াল পালনের অনুমতি থাকলেও নিষ্ঠুরতা অপরাধ। একটি বিড়ালকে আটকে রেখে না খাইয়ে মেরে ফেলার কারণে এক নারীর শাস্তির কথা সহিহ বুখারির হাদিসে (৩৪৮২) আছে। তাই কেউ বিড়াল পুষলে তার খাবার, পানি ও চিকিৎসার যত্ন নেওয়া জরুরি।
সারকথা, শখ করে ঘরে কুকুর রাখা নিষেধ হলেও প্রয়োজনে বাইরে পালন বৈধ; বিড়াল পালন বৈধ, তবে সরাসরি সুন্নত নয়। প্রতিটি প্রাণীর অধিকার রক্ষা মুসলিমের দায়িত্ব।
ছবি: লামাবাজারের একটি বিড়াল, Moheen Reeyad / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: প্রথম আলো





মন্তব্য
(০)