ইসলামি আইনশাস্ত্রে মাজহাব বলতে বোঝায় কোনো মুজতাহিদ ইমামের কোরআন ও হাদিস থেকে প্রণীত গবেষণালব্ধ আইনি সিদ্ধান্তের (ইজতিহাদ) সমষ্টি। প্রথম আলোর ধর্ম ডেস্কের এক লেখায় দেখানো হয়েছে, মুসলিম পণ্ডিতেরা ইতিহাসে নানা কারণে এক মাজহাব থেকে অন্য মাজহাবে গেছেন, যার কিছু প্রশংসনীয়, কিছু নিন্দনীয়।
লেখাটি মনে করিয়ে দিয়েছে, ইমাম জাহাবির মতে শিক্ষার্থীর উচিত প্রথমে একটি মাজহাবি ফিকহগ্রন্থ আত্মস্থ করা, ব্যাখ্যা পড়া, তারপর দলিলের শক্তি বিচার করে সিদ্ধান্ত নেওয়া (সিয়ারু আলামিন নুবালা)।
প্রথম কারণ দলিলের শক্তি। ইমাম শাফেয়ি (রহ.) মিসরে গিয়ে নতুন হাদিস ও প্রমাণের মুখোমুখি হয়ে পুরোনো ফিকহি অবস্থান ছেড়ে নতুন অবস্থান নেন। ইমাম ইবনে দাকিক আল-ইদ (রহ.) মালেকি মাজহাবে বেড়ে উঠলেও পরে শাফেয়ি মাজহাবে যান।
দ্বিতীয় কারণ শিক্ষক ও প্রাতিষ্ঠানিক পরিবেশ। ইমাম সামআনি (রহ.) ত্রিশ বছর হানাফি থাকার পর এক শাফেয়ি মনীষীর সান্নিধ্যে শাফেয়ি মাজহাব গ্রহণ করেন। আবার ইমাম আত-তাহাবি (রহ.) শাফেয়ি আলেম আল-মুজানির শিষ্য হয়েও হানাফি পণ্ডিত আহমদ ইবনে আবি ইমরানের সান্নিধ্যে হানাফি মাজহাবে যোগ দেন। তৃতীয় কারণ গবেষণার স্বাধীনতা: ইমাম ইবনে হাজম আন্দালুসি (রহ.) মালেকি থেকে শাফেয়ি হয়ে শেষে জাহিরি মাজহাব পুনর্গঠন করেন; ইয়েমেনের ইমাম সানআনি ও শাওকানি জাইদি ধারা ছেড়ে স্বাধীন ইজতিহাদের পথ নেন।
চতুর্থ কারণ আঞ্চলিক প্রয়োজন। ফকিহ আহমদ ইবনে ফারিস আল-রাজি শাফেয়ি থেকে মালেকি মাজহাবে যান রায় শহরে মালেকি মাজহাবের বিলুপ্তি ঠেকাতে। সেলজুক আমলে বাগদাদের নিজামিয়া ও মুস্তানসিরিয়ার মতো মাদ্রাসা নির্দিষ্ট মাজহাবের আলেমদের কর্মসংস্থান করত; ইবনুল হুবাইর সালামি হানবালি থেকে শাফেয়ি হয়ে নিজামিয়ায় অধ্যাপনা পান।
নিন্দনীয় কারণও ছিল: অর্থ, চাকরি বা পদের জন্য মত বদল। ব্যাকরণবিদ ইবনে আল-দাহান হানবালি হলেও নিজামিয়ায় শাফেয়িদের জন্য সংরক্ষিত পদ পেতে শাফেয়ি মাজহাব নেন, যা তখন সমালোচিত হয়েছিল। সত্য খোঁজার বদলে শুধু সুবিধামতো সহজ ফতোয়ার জন্য এক মাজহাব থেকে আরেক মাজহাবে ছোটাছুটির নজিরও ইতিহাসে আছে বলে লেখাটি উল্লেখ করেছে।
ছবি: বাগদাদের পুরোনো মুস্তানসিরিয়া মাদ্রাসা, Makaay31 / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: প্রথম আলো





মন্তব্য
(০)