মানুষের প্রতি দয়ার পাশাপাশি প্রাণীর প্রতিও দয়ার শিক্ষা দিয়েছেন মহানবী (সা.)। ঘরের পরিচিত প্রাণী বিড়ালের প্রতি তিনি স্নেহশীল ছিলেন, বিড়ালের প্রতি নিষ্ঠুরতা নিষিদ্ধ করেছেন এবং তার যত্নের গুরুত্ব বুঝিয়েছেন। দেশ রূপান্তরে প্রকাশিত লেখায় আহমদ আবদুর রাফি হাদিস থেকে এ শিক্ষাগুলো তুলে ধরেছেন।
সহিহ বুখারির একটি হাদিসে রাসুল (সা.) বলেছেন, এক নারীকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হয়েছে, কারণ সে একটি বিড়ালকে বেঁধে রেখেছিল; তাকে খেতে দেয়নি, পানি দেয়নি, আবার ছেড়েও দেয়নি যাতে সে নিজে খাবার খুঁজে নিতে পারে। লেখকের ভাষ্যে, এ হাদিস বলে দেয় কোনো প্রাণীর অধিকার আদায় না করাই পাপ।
আনাস ইবনে মালিক (রা.)-এর বর্ণনায় (তাবরানি) আছে, নবীজি (সা.) একবার একটি বিড়ালকে অজুর পানিতে মুখ দিতে দেখেও সেই পানি দিয়ে অজু করতে দ্বিধা করেননি। তিনি বলেছেন, বিড়াল ঘরে ঘোরাফেরা করা প্রাণীদের একটি, এটি কিছু অপবিত্র করে না।
এ থেকে ফকিহরা বলেন, বিড়ালের উচ্ছিষ্ট বা মুখ দেওয়া পানি নাপাক নয়। তবে অন্য পবিত্র পানি থাকা অবস্থায় তা দিয়ে অজু করা মাকরুহে তানজিহি, অর্থাৎ না করাই উত্তম। কেউ করে নামাজ পড়লে অজু ও নামাজ দুটোই সহিহ হবে।
লেখকের মতে, নবীজির জীবনে বিড়ালের উপস্থিতি এক মানবিক অধ্যায়, আর এসব হাদিস দেখায় ইসলাম প্রাণীকল্যাণকে কতটা গুরুত্ব দিয়েছে। ঘরে বা আশপাশে থাকা প্রাণীকে খাবার-পানি দেওয়া, আটকে রেখে কষ্ট না দেওয়া, এগুলো মুসলিমের দায়িত্বের অংশ।
ছবি: সারায়েভোর গাজি হুসরেভ-বেগ মসজিদের বাইরে বিড়াল, Jennifer Boyer / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.0)
সূত্র: দেশ রূপান্তর





মন্তব্য
(০)