মানুষ মারা যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তার নিজের পুণ্য অর্জনের সব দরজা বন্ধ হয়ে যায়; কবরে সে নিজের জন্য আর নামাজ পড়তে বা দান করতে পারে না, জীবিতদের দোয়ার অপেক্ষায় থাকে। জীবিতদের পক্ষ থেকে মৃতের কাছে পুণ্য পৌঁছানোকে ইসলামে ‘ইসালে সওয়াব’ বলা হয়। প্রথম আলোর ধর্ম পাতায় এহসান সিরাজ মৃত মা-বাবার জন্য সবচেয়ে উপকারী তিনটি আমলের কথা লিখেছেন।
প্রথম আমল ক্ষমা প্রার্থনা ও দোয়া। লেখক সুনানে ইবনে মাজাহর (হাদিস: ৩৬৬০) একটি হাদিস উদ্ধৃত করেছেন, যেখানে রাসুল (সা.) বলেছেন, জান্নাতে একজনের মর্যাদা হঠাৎ বাড়িয়ে দেওয়া হবে; কারণ জানতে চাইলে বলা হবে, তার জন্য সন্তানের ইস্তিগফারের কারণে।
কোরআনে মা-বাবার জন্য দোয়ার ভাষাও শেখানো হয়েছে: ‘রব্বির হামহুমা কামা রব্বায়ানি সগিরা’, অর্থাৎ হে আমার প্রতিপালক, তাঁদের প্রতি দয়া করুন, যেভাবে তাঁরা শৈশবে আমাকে লালন-পালন করেছেন (সুরা বনি ইসরাইল, আয়াত ২৪)। প্রতিদিনের নামাজের পর এই দোয়া পড়াকে নেক সন্তানের দায়িত্ব বলেছেন লেখক।
দ্বিতীয় আমল সদকায়ে জারিয়া, অর্থাৎ এমন দান যার উপকার দীর্ঘস্থায়ী: মসজিদ নির্মাণ, পানির ব্যবস্থা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে অনুদান বা গাছ লাগানো। সুনানে নাসায়ির (হাদিস: ৩৬৬৪) বর্ণনায় আছে, সাহাবি সাদ ইবনে উবাদা (রা.) মায়ের মৃত্যুর পর জানতে চেয়েছিলেন কোন দান সবচেয়ে উত্তম; নবীজি (সা.) বলেছিলেন, পানির ব্যবস্থা করা। এরপর সাদ একটি কূপ খনন করে বলেন, এটি সাদের মায়ের জন্য।
লেখক আরও উল্লেখ করেছেন, জীবিত ব্যক্তি নফল নামাজ, রোজা, কোরআন তিলাওয়াত বা সদকার সওয়াব মৃত ব্যক্তির জন্য বখশে দিতে পারেন (ইবনে আবিদিন, রদ্দুল মুহতার)।
তৃতীয় আমল মা-বাবার আত্মীয়স্বজন, যেমন চাচা, ফুফু, মামা, খালা, এবং তাঁদের জীবিত বন্ধুদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা। লেখকের ভাষায়, মা-বাবার স্মৃতি ও ভালোবাসা বাঁচিয়ে রাখার এটি অন্যতম উপায়।
ছবি: ঢাকার আজিমপুর কবরস্থানে স্বজনের জন্য দোয়া, Md. Redwan Hossain / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: প্রথম আলো





মন্তব্য
(০)