দক্ষিণ আফ্রিকার ফ্রি স্টেট প্রদেশের বোথাভিলের কাছে নাম্পো পার্কে ২ ও ৩ অক্টোবর হয়েছে নাম্পো আলফা (Nampo Alfa) প্রদর্শনী। প্রথম দিনে দেশটির পশুসম্পদ খাতের আলোচনার কেন্দ্রে ছিল দীর্ঘ পশুস্বাস্থ্য সংকট থেকে ঘুরে দাঁড়ানো এবং খামারি, শিল্প ও সরকারের একসঙ্গে কাজ করার প্রয়োজন।
আয়োজকেরা জানান, খুরা রোগ (ফুট অ্যান্ড মাউথ ডিজিজ) নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও কড়া জৈব নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও ব্যাপকভাবে টিকা দেওয়ার নিয়ম মানায় এবার অনেক গবাদিপশু প্রদর্শনীতে আনা গেছে। এই আয়োজনে গবাদিপশুর পাশাপাশি থাকে বহিরঙ্গন জীবন, শিকার, শুটিং খেলা ও তরুণদের দক্ষতা উন্নয়নের নানা আয়োজন।
‘রোড টু রিকভারি’ শিরোনামের আলোচনায় পশুসম্পদ মূল্যশৃঙ্খলের নানা পক্ষ রোগ নিয়ন্ত্রণে খাতের ভূমিকা পর্যালোচনা করেন। বারবার উঠে আসে একটি কথা: পশুস্বাস্থ্য ব্যবস্থা শক্ত করতে ও সহনশীলতা বাড়াতে উৎপাদক, শিল্প সংগঠন ও সরকারকে আরও কার্যকরভাবে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
বর্তমান ব্যবস্থায় যোগাযোগ ও সমন্বয়ের ঘাটতি নিয়ে ক্ষোভও স্পষ্ট ছিল। টিকার প্রাপ্যতা এবং পশুস্বাস্থ্য বিষয়ে সরকারের ভূমিকা নিয়ে খামারিরা উদ্বেগ জানান। কয়েকজন বক্তা বলেন, প্রয়োজনীয় কাঠামো, আইন ও নিবেদিত মানুষ দেশে এরই মধ্যে আছে। তাই নতুন নিয়মকানুনের চেয়ে আলোচনায় বেশি জোর পড়ে বাস্তবায়ন, ভালো যোগাযোগ, পশুর উৎস শনাক্তকরণ (ট্রেসেবিলিটি) এবং ঘনিষ্ঠ সহযোগিতায়।
নাম্পোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডার্ক স্ট্রাইডম (Dirk Strydom) বলেন, প্রথম দিনটি ছিল মূলত লাল মাংস নিয়ে বড় আলোচনা, এদিন শিল্পসংশ্লিষ্টরা বেশি আসেন আর শনিবার আসে পরিবারগুলো। তাঁর মতে, এই আয়োজনের শক্তি এর হাতে-কলমে চরিত্র ও সবার কাছে আবেদন।
বিভিন্ন জাতের পশুর আন্তঃজাত বিচার ও প্রদর্শনী ছিল প্রধান আকর্ষণ। স্কুলের দলগুলোর জন্য ছিল ‘ফার্ম স্কিলস’ প্রতিযোগিতা, যেখানে গবাদিপশু মূল্যায়ন থেকে যান্ত্রিক কাজ পর্যন্ত দক্ষতা যাচাই হয়। এক খামারি দেখান দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম ক্ষুদ্রাকৃতির খচ্চর বলে তাঁর দাবি করা পশু।
ফার্মার্স উইকলির হয়ে প্রতিবেদনটি করেছেন ক্লেটন সোয়ার্ট।
সূত্র: ফার্মার্স উইকলি সাউথ আফ্রিকা



মন্তব্য
(০)