বাণিজ্যিক মাছ ধরার ট্রলারে সোনার প্রযুক্তির ব্যবহার দুই বছরের জন্য স্থগিত থাকবে বলে গত ১ অক্টোবর জানিয়েছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়। মাছের সন্তোষজনক মজুদ নিশ্চিত করতে এই আদেশ। ২০০ মিটারের বেশি গভীর সমুদ্র ও আন্তর্জাতিক জলসীমায় টুনা ও টুনাজাতীয় মাছ ধরা নৌযান এর বাইরে থাকবে। সামুদ্রিক মৎস্য জরিপ ব্যবস্থাপনা ইউনিটের প্রতিবেদন বলছে, এই প্রযুক্তি সাগরে অতিরিক্ত মাছ ধরার ঝুঁকি বাড়িয়েছে।
সোনার হলো শব্দতরঙ্গ পাঠিয়ে পানির নিচের বস্তু খোঁজার কৌশল। অ্যাকটিভ সোনার শব্দের স্পন্দন পাঠিয়ে তার প্রতিধ্বনি শোনে, প্যাসিভ সোনার যেকোনো শব্দের উৎস শনাক্ত করে। এতে পানির নিচে মাছের বিচরণের ছবি দেখা যায়, তাই জাল ফেলার জায়গা আগেই ঠিক করা যায়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রলারে আহরণ বাড়লেও ইলিশসহ নানা মাছের প্রাকৃতিক মজুদ আশঙ্কাজনকভাবে কমছে। লক্ষ্য করে মাছ ধরায় প্রজননক্ষম মাছ ও জাটকা ব্যাপক হারে ধরা পড়ছে। ক্ষুদ্র জেলেরা সাগরে কাঙ্ক্ষিত মাছ পাচ্ছেন না, আর অতিরিক্ত শব্দতরঙ্গে সামুদ্রিক প্রাণীর স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।
সামুদ্রিক মৎস্য জরিপ ইউনিটের তথ্যে, ২০০৭ সালে প্রথম চারটি ট্রলারে সোনারের অনুমোদন মেলে; ২০২০ সালে ১৬টি এবং ২০২১-২৪ সালে ২১টি ট্রলার অনুমোদন পায়। এখন প্রায় ৭০টি বাণিজ্যিক জাহাজে এটি ব্যবহৃত হচ্ছে। দেশে নিবন্ধিত যান্ত্রিক ও আর্টিশনাল বোট ২৯ হাজার ৬৭৯টি এবং বাণিজ্যিক জাহাজ ২০২টি।
প্রতিবেদনের সুপারিশের মধ্যে আছে সোনারের রেঞ্জ অনধিক ২,০০০ মিটার ও ফ্রিকোয়েন্সি ৫০-২০০ কিলোহার্টজে বেঁধে দেওয়া, ৩৬০ ডিগ্রি স্ক্যান বন্ধ করা, সব সোনার ব্যবহারকারী ট্রলারে ভিএমএস ও এআইএস সচল রাখা, ট্রলারভিত্তিক আহরণ কোটা ঠিক করা, নতুন ট্রলারে সোনারের লাইসেন্স বন্ধ রাখা এবং ৪০ মিটারের কম গভীরতায় সোনার দিয়ে মাছ ধরা নিষিদ্ধ করা।
চট্টগ্রাম সামুদ্রিক মৎস্য দপ্তরের পরিচালক মো. নজরুল ইসলাম বাংলানিউজকে জানান, সোনারের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার মাছের বৃদ্ধিতে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থগিতের আদেশ আছে এবং ১৮ অক্টোবর মৎস্য অধিদপ্তরের সভায় তদারকির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে, তবে তাঁদের কাছে এখনো নির্দেশনা পৌঁছায়নি। নির্দেশনা পেলে তদারকি শুরু হবে।
প্রতিবেদন: তপন চক্রবর্তী, চট্টগ্রাম।
সূত্র: বাংলা নিউজ ২৪



মন্তব্য
(০)