নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই চাঁদপুরের বড় স্টেশন মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে ইলিশের সরবরাহ পড়ে গেছে, আর প্রতি কেজিতে দাম বেড়েছে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত। বুধবার (৪ নভেম্বর) সকালে ঘাটে ইলিশ নিয়ে এসেছে মাত্র একটি নৌকা। অন্য বছর এ সময় পন্টুনে সারি বেঁধে ট্রলার থাকত, প্রতিদিন নামত শত শত মণ মাছ।
খুচরা বিক্রেতা শামীম হোসেন জানান, ২৯ অক্টোবর নিষেধাজ্ঞা শেষের পর প্রথম দুদিন প্রতিদিন আড়াই হাজার থেকে তিন হাজার মণ ইলিশ এসেছিল, চট্টগ্রাম থেকেও এসেছিল প্রচুর মাছ। এখন স্থানীয় জেলেদের কাছ থেকে দিনে পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ২৫ থেকে ৩০ মণ। সকাল ১০টায় যে পাইকারি বেচাকেনা শুরু হয়, তা এখন সীমিত হয়ে আছে কয়েকটি আড়তের সামনে। অন্য জেলায় মাছ পাঠানোর তৎপরতাও কম।
তাঁর হিসাবে, এক কেজি ওজনের স্থানীয় ইলিশ এখন দুই হাজার ৭০০ থেকে দুই হাজার ৮০০ টাকা, ৮০০ গ্রামের ইলিশ দুই হাজার থেকে দুই হাজার ২০০ টাকা এবং ছোট আকারের ইলিশ এক হাজার থেকে এক হাজার ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ঘাটে আসা ক্রেতা মাহমুদ বলেন, পুরো ঘাটেই দাম বেশি, সরবরাহ কম থাকায় বিক্রেতারা কমাতে চাইছেন না।
হরিণা ফেরিঘাটের বিক্রেতা জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, নদীতে স্থানীয় জেলেরা আগের চেয়ে কম ইলিশ পাচ্ছেন। তবে কিছু পাঙ্গাশ পাওয়ায় মাছ ধরার খরচ উঠে আসছে; বড় পাঙ্গাশ বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি এক হাজার থেকে এক হাজার ২০০ টাকায়।
চাঁদপুর মৎস্য বণিক সমবায় সমিতির সভাপতি আব্দুল বারি জমাদার মানিক বলেন, নিষেধাজ্ঞার পর কয়েক দিন সরবরাহ ভালো ও দাম কম ছিল, এখন আমদানি প্রায় নেই বললেই চলে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, কয়েক সপ্তাহের মধ্যে মৌসুম শেষ হতে পারে। সামনের অমাবস্যা ও পূর্ণিমায় জেলেরা পর্যাপ্ত মাছ পেলে সরবরাহ বেড়ে দাম কিছুটা কমতে পারে।
প্রতিবেদনটি করেছেন বাংলানিউজের ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট মুহাম্মদ মাসুদ আলম।
ছবি: Mamun2a / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 2.5)
সূত্র: বাংলা নিউজ ২৪




মন্তব্য
(০)