২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে ভোলার মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে নেমে কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ ইলিশ পাচ্ছেন না জেলেরা। যা মিলছে, তারও বেশিরভাগের পেটে ডিম। জেলেদের নিজেদের হিসাবে ১০০টি ইলিশের ৯৫টিতেই ডিম পাওয়া যাচ্ছে, কিছু মাছ ডিম ছাড়ার একেবারে কাছাকাছি অবস্থায় জালে উঠেছে।
ভোলা সদরের কাচিয়া ইউনিয়নের জেলে সুজন মাঝি জানান, পাঁচজন মিলে ভোর ও বিকেলে নদীতে গিয়ে দিনে ৩০ থেকে ৪০টি ইলিশ পাচ্ছেন, তার এক-দুটি ছাড়া বাকিগুলোর পেট ডিমে ভরা। রাজাপুর ইউনিয়নের কালাম মাঝির দল ১ নভেম্বর বিকেল পর্যন্ত সাড়ে ৩৫০ থেকে ৪০০টি ইলিশ পেয়েছে, এর মধ্যে ডিম ছাড়া ইলিশ ছিল মাত্র ১২ থেকে ১৫টি। ধনিয়ার জামাল মাঝি ও শিবপুরের ভূট্ট মাঝি বলছেন, বহু বছরের পেশাজীবনে নিষেধাজ্ঞার পর এত ডিমওয়ালা ইলিশ তাঁরা দেখেননি।
জেলে ও আড়তদারদের অভিযোগ, ৮ থেকে ২৯ অক্টোবরের নিষেধাজ্ঞা সঠিক সময়ে হয়নি। পূর্ব ইলিশ মৎস্য ঘাটের আড়তদার মো. সাহাবুদ্দিন ফরাজীর ধারণা, নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শুরু হলে ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ ইলিশ ডিম ছাড়তে পারত। তিনি আগামী বছর তারিখ ঠিক করার সময় ভোলার জেলে ও মৎস্যজীবীদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. দেলোয়ার হোসাইন বলেন, ইলিশ সারা বছরই ডিম ছাড়ে, তবে নির্দিষ্ট সময়ে বেশি। নিষেধাজ্ঞা শেষ হলেও এখনো কিছু ইলিশের ডিম ছাড়ার সময় আছে। নিষেধাজ্ঞার সময় মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট ঠিক করে জানিয়ে তিনি বলেন, সময়টি সঠিক হয়েছে কি না তা তাঁর জানা নেই। পর্যাপ্ত ইলিশ ডিম ছাড়তে না পারলে নদী ও সাগরে মাছের সংকট দেখা দিতে পারে বলে তিনিও মনে করেন।
বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক ও ইলিশ গবেষক ড. মো. আনিছুর রহমানের মতে, নিষেধাজ্ঞার সময়ে ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ ইলিশের পেটে ডিম ছিল এবং অমাবস্যা ও পূর্ণিমায় মাছ ঠিকমতো ডিম ছাড়তে পেরেছে বলে তাঁর মনে হয় না। তিনি এতে আবহাওয়া ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব দেখছেন। সম্ভাব্য সংকট এড়াতে তিনি জাটকা রক্ষায় ও অবৈধ জালের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযানে জোর দিয়েছেন।
ভোলায় প্রায় তিন লাখ জেলে ইলিশ শিকারে যুক্ত। জেলা মৎস্য কার্যালয়ের তথ্যে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে জেলায় ইলিশ উৎপাদন ছিল ১ লাখ ৮১ হাজার ৩৪২ মেট্রিক টন, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা কমে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৭৯ হাজার ৩৩১ মেট্রিক টনে। ভেদুরিয়ার জেলে মো. হানিফ মাঝি ও ফরিদ মাঝির কথায়, ২২ দিন কষ্ট করে নদীতে না গিয়েও ইলিশ ডিম ছাড়তে না পারলে সবচেয়ে ক্ষতি জেলেদেরই।
প্রতিবেদনটি করেছেন জাগো নিউজের জুয়েল সাহা বিকাশ।
ছবি: Mamun2a / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 2.5)
সূত্র: জাগো নিউজ ২৪




মন্তব্য
(০)