ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার বালিয়া গ্রামের জাহাঙ্গীর আলমের মাছ চাষের শুরু প্রায় ২৫ বছর আগে। তখন তিনি পারিবারিক স্যানিটারি পণ্যের ব্যবসায় ছিলেন। দোকানে আসা মাছচাষিদের কাছে এই খাতের সম্ভাবনার কথা শুনে তিনি ব্যবসা বদলান। গত চার দশকে এই অঞ্চলের ধান-পাটের অনেক জমিই মাছের পুকুরে পরিণত হয়েছে।
স্ত্রীর গয়না বিক্রি করে পাঁচ একর জমি লিজ নিয়ে তিনি পুকুর খনন করেন। ৫ লাখ টাকা বিনিয়োগে প্রথম বছরে সাড়ে ৯ লাখ টাকার মাছ বিক্রি হয়, তাঁর হিসাবে নিট লাভ ছিল সাড়ে ৪ লাখ টাকা। কই ও তেলাপিয়া দিয়ে শুরু করলেও পোনার জন্য বাইরের ওপর নির্ভরতা কমাতে পরে নিজস্ব হ্যাচারি গড়ে তোলেন।
সাতটি পুকুর দিয়ে শুরু করা এই খামারে এখন অর্ধশতাধিক পুকুর, কাজ করেন প্রায় ৩০ জন। দেশি শিং মাছের কৃত্রিম প্রজনন ও চাষের প্রসারে কাজের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি জাতীয় পর্যায়ে স্বর্ণপদক পেয়েছেন।
তবে একবার অতিবৃষ্টিতে পুকুর তলিয়ে এক রাতেই প্রায় ৭০ লাখ টাকার মাছ ভেসে যায় বলে জানান তিনি। আবারও স্ত্রীর গয়না বিক্রি করে নতুন করে শুরু করতে হয়েছিল। এখন তাঁর উদ্বেগ মাছের খাবার, পোনা, ওষুধ ও মজুরির খরচ এবং অতিবৃষ্টি, বন্যা, তাপমাত্রার পরিবর্তন ও পানির মানের অবনতির ঝুঁকি নিয়ে।
মৎস্য অধিদপ্তরের বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে মাছ উৎপাদিত হয়েছে প্রায় ৫১ দশমিক ১১ লাখ মেট্রিক টন। এর ৩১ দশমিক ০৪ লাখ টন, অর্থাৎ প্রায় ৬১ শতাংশ, এসেছে পুকুরের মতো অভ্যন্তরীণ বদ্ধ জলাশয় থেকে।
পানির তাপমাত্রা ও অক্সিজেন নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করলে অনেক সমস্যার আগাম লক্ষণ ধরা পড়ে। তবে আরএএস বা বায়োফ্লকের মতো প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ, দক্ষতা ও বিদ্যুৎ লাগে, তাই ব্যয় যাচাই করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া দরকার। জাহাঙ্গীর পুকুরপাড়ে পেঁপে, কলা ও শাকসবজি চাষ করেন, যার আয় মাছ চাষের খরচ মেটাতে সাহায্য করে।
চ্যানেল আইয়ের পরিচালক ও বার্তাপ্রধান শাইখ সিরাজ এই খামার নিয়ে তাঁর লেখায় বলেছেন, মাছচাষিদের কাছে সময়মতো আবহাওয়ার পূর্বাভাস ও পরামর্শ, জলবায়ু সহনশীল পুকুর ব্যবস্থাপনার প্রশিক্ষণ, পানির মান পরীক্ষার সুবিধা এবং মানসম্মত পোনা ও খাবার পৌঁছে দেওয়া দরকার।
ছবি: দিব্য দত্ত (Dibya Dutta) / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: এগ্রি বার্তা





মন্তব্য
(০)