কক্সবাজারের সোনাদিয়া দ্বীপে আসা তিন বিশ্বব্যাপী বিপন্ন পরিযায়ী সৈকত পাখি, চামচঠুঁটো বাটান, বড় নট ও নর্ডম্যানের সবুজপা, দ্রুত কমে যাচ্ছে। গত শীতে দ্বীপে গিয়ে তিনটি প্রজাতিরই দেখা পেতে দুই দিন লেগেছে বলে প্রথম আলোয় লিখেছেন পাখিপর্যবেক্ষক সীমান্ত দীপু, যিনি ২০০৬ সাল থেকে নিয়মিত সোনাদিয়ায় যান।
প্রতি শীতে সোনাদিয়ায় এখনো ৭ থেকে ১০ হাজার পরিযায়ী পাখি দেখা যায়। তবে গবেষক সায়েম চৌধুরীর এক গবেষণাপত্রে দেখা গেছে, সোনাদিয়াসহ উপকূলজুড়ে পরিযায়ী সৈকত পাখি আশঙ্কাজনক হারে কমছে; ২০ প্রজাতির তুলনামূলক বিশ্লেষণে ১২টির সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
সবচেয়ে বড় ধাক্কা চামচঠুঁটো বাটানের। ১০ থেকে ১৫ বছর আগে সোনাদিয়ায় গড়ে ৩০টি করে দেখা যেত, এখন সংখ্যাটি ১০-এর নিচে; গত শীতে দেখা গেছে মাত্র তিনটি। ২০১৭ সালে কালাদিয়ায় একসঙ্গে ১২টি দেখেছিলেন সীমান্ত দীপু। মাত্র ৩০ গ্রাম ওজনের পাখিটি প্রজনন করে রাশিয়ার চুকোটকা ও কামচাটকায়, সোনাদিয়া থেকে আট হাজার কিলোমিটারের বেশি দূরে। গোটা পৃথিবীতে টিকে আছে মাত্র ৪৪৩টি।
বড় নট বাংলাদেশে বছরে গড়ে ১৯ দশমিক ৯ শতাংশ হারে কমছে। একসময় সোনাদিয়ার কাদাচরে পাঁচ শর মতো বড় নট দেখা যেত, এখন তা অর্ধেকে নেমেছে; গত বছরের পাখিশুমারিতে উপকূলের অন্য জায়গাতেও কয়েকটি মিলেছে। পাখিটিকে প্রায়ই লাল নটের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা হয়।
নর্ডম্যানের সবুজপার অবস্থা আরও ভয়াবহ: সম্প্রতি সোনাদিয়া ছাড়া দেশের অন্য কোথাও এর দেখা মিলছে না বললেই চলে, আর পাখিটি বছরে গড়ে ১৫ দশমিক ৫ শতাংশ হারে কমছে।
লেখকের পর্যবেক্ষণ, গত ২০ বছরে দ্বীপে মানুষের বিচরণ বেড়েছে, কাদাচরও বেড়েছে, কিন্তু কাদাচরের পাখি বাড়েনি; আবাসস্থল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় চামচঠুঁটো বাটান এখন আর তেমন আসে না। সোনাদিয়া ঘিরে প্রায়ই মহাপরিকল্পনা হয়; উন্নয়নে এই বিরল পরিযায়ীরা হারিয়ে যেতে পারে বলে তাঁর আশঙ্কা।
ছবি: Tisha Mukherjee / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0); পশ্চিমবঙ্গের বকখালিতে চামচঠুঁটো বাটান
সূত্র: প্রথম আলো





মন্তব্য
(০)