প্রথাগত বীজ ভান্ডার কেবল দুর্যোগের বিমা নয়, স্থানীয়ভাবে খাপ খাওয়া ফসলের জিনগত বৈচিত্র্য আর প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে গড়া জ্ঞানও বাঁচিয়ে রাখে। বিশ্ব খাদ্য দিবস উপলক্ষে ভারতের ডাউন টু আর্থ পত্রিকায় লেখা এক মতামতে আনুশকা গুরুং (Anushka Gurung) ও সোনম ইয়াংচেন ভুটিয়া (Sonam Yangchen Bhutia) দেখিয়েছেন, সিকিম ও আশপাশের গৃহস্থরা ঘরের জিনিস দিয়েই কাজটি করেন। মতামত লেখকদের নিজস্ব।
দেয়াল, ছাদ আর চালের কিনারা হয়ে ওঠে বীজ শুকানোর জায়গা। শসা ও কুমড়ার বীজ ছড়িয়ে বা দেয়ালে চেপে শুকানো হয়; কাঠের বাড়িতে কাঠের উষ্ণ, শুকনো তল বীজের আর্দ্রতা টেনে নেয়। ভুট্টার মোচা একসঙ্গে বেঁধে ছাদ, কড়িকাঠ বা চালের নিচে ঝুলিয়ে রাখা হয়, যাতে বাতাস চলে আর স্যাঁতসেঁতে মাটি থেকে দূরে থাকে। মরিচ, গাছটমেটো, রসুন ও শিমও এভাবে শুকানো হয়।
রান্নার চুলার ঠিক ওপরে থাকে ‘ভার’, বাঁশ ও কাঠের তৈরি উঁচু তাক। এতে রাখা হয় দেশি শিম ও ডাল, জ্বালানি কাঠ, ঔষধি গাছ আর মাংস। চুলার একটানা তাপ আর ধোঁয়া ধীরে ধীরে বীজ শুকায়, আর প্রথাগত বিশ্বাস হলো ধোঁয়া ও ঝুল পোকা ও আর্দ্রতা দূরে রাখে। বাঁশের কুলা ‘নাংলো’-তে রোদে ডাল শুকানো হয়; একটি কুলাতেই দেখা যায় এক পরিবার কত রকম বীজ রাখে।
লেখকেরা এর সঙ্গে যুক্ত করেছেন ‘কোথে বাড়ি’ বা আঙিনার বাগানকে, যাকে তাঁরা জীববৈচিত্র্য ও সংস্কৃতির আশ্রয়স্থল বলছেন। সেখানে পেঁয়াজকলি, রসুন, হলুদ, মুলা, এলাচ, মটর ও শাক পাশাপাশি জন্মায়, সঙ্গে সাতুয়ার মতো ঔষধি গাছ, বাঁশ এবং বনের গাছও, যা কেবল বন থেকে সংগ্রহ না করে চাষ করা হয়।
লেখকদের মতে, এই চর্চা আসলে জনগোষ্ঠীভিত্তিক সংরক্ষণ, যার ভিত্তি কখন ফসল তুলতে হবে, কোন বীজ রাখতে হবে, কীভাবে শুকাতে হবে আর কখন আবার বুনতে হবে সে বিষয়ে প্রজন্মের জ্ঞান। খাদ্যব্যবস্থা যত বেশি উচ্চফলনশীল হাইব্রিডের দিকে ঝুঁকছে, ততই জিনগত ক্ষয় আর সাংস্কৃতিক ক্ষতির ঝুঁকি বাড়ছে, বিশেষ করে সিকিমের মতো জায়গায়, যা এখনো খাদ্য-নিরাপত্তাহীন। তাঁদের ভাষায়, দেশি বীজ রক্ষা করা মানে ভবিষ্যতের পথ খোলা রাখা।
ছবি: Cho21 / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: ডাউন টু আর্থ





মন্তব্য
(০)