ভারতের মধ্যপ্রদেশের সিওনি জেলার কৃষকেরা সাভানা ১৩৪ ফুলপেজ (Savannah 134 FullPage) নামে একটি আগাছানাশক সহনশীল ধানের জাত দিয়ে সরাসরি বোনা ধানের চাষ বাড়াচ্ছেন। তাঁদের ভাষ্য, এই পদ্ধতির দুই বড় বাধা, আগাছা আর কম ফলন, এই জাতে অনেকটা কেটেছে।
রুরাল ভয়েসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গঙ্গেরুয়া গ্রামের মহতলাল বিসেন (Mahtlal Bisen) তিন বছর আগে দুই একরে শুরু করে এখন ১১ একরে চাষ করছেন। তিনি বলেন, স্থানীয়ভাবে সাদা লম্বা নামে পরিচিত আগাছা ধান আগে তাঁর ফলন ৩০-৪০ শতাংশ কমিয়ে দিত, আর চেনা যাওয়ার সময় তা হাতে তোলা প্রায় অসম্ভব ছিল। পিপরিয়ার খেলেন্দ্র বিশেন দুই একর থেকে ২০ একরে এবং ধাতুরিয়ার বৈদ্যনাথ বাঘেল দুই বছরে ১২০ একরে গেছেন।
এই কৃষকদের হিসাবে রোপা ধানে সাধারণ মৌসুমে একরে প্রায় ১৬ কুইন্টাল এবং খারাপ মৌসুমে ১২-১৪ কুইন্টাল ফলন হয়, আর ফুলপেজে হয় ২০-২৬ কুইন্টাল। বাঘেল বলেন, পুরোনো একটি জাতে ফলন ছিল ১৬-১৭ কুইন্টাল, আর একরে বীজ লাগত প্রায় ৪০ কেজি; এই জাতে লাগে ৭-১০ কেজি। এই হিসাবগুলো কৃষকদের নিজেদের, আর বাঘেল জানান এর বীজের দামও বেশি।
প্রক্রিয়াজাত বীজ ভালোভাবে গজায় এবং জাতটি কোম্পানির নির্ধারিত আগাছানাশক ওয়াজির (Wazir) সহ্য করতে পারে, তাই হাতে আগাছা না তুলে স্প্রে করা যায়। কৃষকেরা বপনের ১২-১৫ দিন পর প্রথমবার এবং ২০ দিন পর দ্বিতীয়বার তা প্রয়োগ করেন। বাঘেলের হিসাবে প্রায় দুটি সেচ কম লাগে; কুদওয়ারির চন্দ্রভান সিং বলেন, বৃষ্টি কম হলেও স্প্রিংকলারে দুই সেচেই ফসল তোলা যায়।
জেলার পরিস্থিতিও এই বদলের পক্ষে। জবলপুর থেকে প্রায় ১৮০ কিলোমিটার দূরের ধাতুরিয়া এলাকার জমি উঁচুনিচু ও মূলত বৃষ্টিনির্ভর, সেখানে কাদা করে রোপা দেওয়া যায় না। সয়াবিন লাভজনক না থাকায় তার আবাদ অনেক কমেছে, আর এ বছর কম বৃষ্টিতে ভুট্টার উৎপাদনও পড়েছে। অন্যদিকে গঙ্গেরুয়া এলাকায় কৃষকের কাছে এর বড় আকর্ষণ পুরোনো ধানের জমিতে আগাছা ধান দমন।
প্রতিবেদন: অজিত সিং (Ajeet Singh)।
ছবি: Yann / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: Rural Voice





মন্তব্য
(০)