এশিয়ার কৃষিকে আরও সহনশীল ও পুনরুজ্জীবনী করতে জৈব কৃষি উপকরণ কাজে লাগাতে হবে। গত সপ্তাহে সিঙ্গাপুরে এশিয়া বায়োলজিক্যালস সামিট ২০২৬-এ এ কথা বলেন ফিলিপাইনের সাবেক কৃষিমন্ত্রী ড. উইলিয়াম ডার (Dr William Dar)। তবে তিনি জানান, কৃষকের আস্থা ও লাভ না থাকলে এসব পণ্য সফল হবে না।
ইক্রিস্যাটের সাবেক মহাপরিচালক ও বর্তমানে আসিয়ান বিজনেস অ্যাডভাইজরি কাউন্সিল ফিলিপাইনের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা ডার বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন, মাটির অবক্ষয়, পানির সংকট, জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি ও বাড়তি উৎপাদন খরচ একটি অন্যটির সঙ্গে জড়িত। অথচ এই অঞ্চলকে প্রায় ৫০০ কোটি মানুষের খাবার জোগাতে হয়।
তাঁর কথায়, এশিয়ার কৃষিতে এমন এক সহনশীলতার বিপ্লব দরকার, যা কৃষিকে আরও উৎপাদনশীল, পুনরুজ্জীবনী, জলবায়ু সহনশীল, লাভজনক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করবে। এর মানে আধুনিক কৃষি ছেড়ে দেওয়া নয়; বিজ্ঞান, উন্নত জাত, ডিজিটাল প্রযুক্তি ও ভালো কৃষিতত্ত্বের ওপর দাঁড়িয়ে এগোনো।
নীতিনির্ধারক, গবেষক ও শিল্পের জন্য তিনি কয়েকটি অগ্রাধিকার তুলে ধরেন। প্রথমত স্বচ্ছ নিবন্ধন ও অনুমানযোগ্য পথসহ বিজ্ঞানভিত্তিক স্পষ্ট বিধিমালা। দ্বিতীয়ত যৌথ গবেষণা ও মাঠ যাচাই, যেখানে বিভিন্ন স্থানে স্বাধীন পরীক্ষা পণ্যের কার্যকারিতায় আস্থা তৈরি করবে। এ ছাড়া পণ্যের পরিচয়, বিশুদ্ধতা, কার্যক্ষমতা, স্থায়িত্ব, লেবেল ও সংরক্ষণের কড়া মান এবং বাজারে আসার পর নজরদারির কথাও বলেন।
ডার স্পষ্ট করেন, এটি নির্বিচার প্রচার বা সুরক্ষা শিথিল করার আহ্বান নয়। কৃষক কোনো প্রযুক্তি নতুন বলে নেন না; নেন সাশ্রয়ী, কাজের ও নির্ভরযোগ্য হলে। নতুন পণ্য পরীক্ষা করতে গিয়ে একজন ক্ষুদ্র কৃষক পুরো মৌসুমের সীমিত আয় ঝুঁকিতে ফেলতে পারেন। তাই তাঁর দরকার মানসম্মত উপকরণ, ভালো পরামর্শ, অর্থায়ন ও সচল বাজার।
ডার বলেন, এশিয়ার লক্ষ্য শুধু জৈব পণ্যের বড় বাজার হওয়া হতে পারে না; এই অঞ্চলকে এসব পণ্যের গবেষণা, উন্নয়ন, যাচাই ও উৎপাদনের বৈশ্বিক কেন্দ্র হতে হবে।
ছবি: Shubert Ciencia / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.0)
সূত্র: AgNavigator





মন্তব্য
(০)