দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতায় চলতি মৌসুমেও সাতক্ষীরার বিস্তীর্ণ জমিতে আমন ধান রোপণ করা যায়নি। জেলার পাঁচ উপজেলায় প্রায় ১২ হাজার ৬৮৫ হেক্টর জমি পানির নিচে থাকায় আমন চাষ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন ২৫ থেকে ৩০ হাজার কৃষক।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসাবে স্থায়ী জলাবদ্ধ জমি সদর উপজেলায় ৩ হাজার ৭৩০ হেক্টর, কলারোয়ায় ১ হাজার ৩৬০ হেক্টর, তালায় ৭ হাজার ৬৫ হেক্টর, আশাশুনিতে ৪৫০ হেক্টর এবং শ্যামনগরে ৮০ হেক্টর।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতি তালা উপজেলার শাকদাহ বিলে। সেখানকার কৃষক সোহরাব হোসেন ও গোবিন্দ দাশ জানান, ৮ থেকে ১০ বছর ধরে তাঁরা জমিতে আমন করতে পারছেন না, অথচ একসময় এখানে প্রচুর আমন হতো। এখন বছরে শুধু বোরো হয়, আর পানিতে ডুবে গবাদিপশুর চারণভূমিও কমেছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক ইকবাল আহমেদ বলেন, দীর্ঘদিন পানি জমে থাকায় সময়মতো চারা রোপণ করা যাচ্ছে না, ফলে কৃষক ফসল হারাচ্ছেন এবং বীজ, সার, শ্রম ও জমি তৈরির খরচ নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়ছেন। তবে গত বছর কয়েকটি খাল পুনঃখননের ফলে এবার আমনের আবাদ প্রায় ৪৫০ হেক্টর বেড়েছে।
কৃষক আন্দোলন কমিটির কেন্দ্রীয় নেতা আশেক এলাহী বলেন, নদী-খাল পুনঃখনন এবং বিলের সরকারি খাল সাধারণ কৃষকের জন্য উন্মুক্ত করা জরুরি; প্রভাবশালীদের দখলে খাল থাকায় পানি নামতে পারছে না বলে তাঁর অভিযোগ। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাতক্ষীরা কার্যালয়ের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. শিমুল মণ্ডল এলাকাভিত্তিক পানিপ্রবাহ ও নিষ্কাশন নিয়ে বৈজ্ঞানিক সমীক্ষা এবং জলাবদ্ধতাসহিষ্ণু জাত ও বিকল্প চাষপদ্ধতির ওপর জোর দিয়েছেন।
বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা, দ্রুত পানি নিষ্কাশনের বাধা দূর না হলে সাতক্ষীরায় অনাবাদি জমি আরও বাড়তে পারে। এগ্রিকেয়ার২৪ প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে সময়ের আলোর বরাতে।
ছবি: জলাবদ্ধ ধানখেত, Muhammad Amdad Hossain / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: এগ্রিকেয়ার২৪





মন্তব্য
(০)