রাঙামাটির পাহাড়ের ভাঁজে ভাঁজে সোনালি পাকা জুম ধান, পাশে সাথি ফসলের সমাহার। ধান কেটে ঘরে তুলতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন জুমিয়ারা। কাপ্তাইসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় একই ছবি।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মনিরুজ্জামান বাসসকে জানান, চলতি বছর রাঙামাটিতে ৫ হাজার হেক্টর জমিতে জুম চাষ হয়েছে। ধানের উৎপাদন লক্ষ্য ১২ হাজার টন, অন্যান্য সবজির ২৫ হাজার টন। একই জমিতে ঘনঘন জুম করলে সামগ্রিক ফলন কমে যেতে পারে বলে তিনি কৃষি বিভাগের পরামর্শ নিয়ে চাষের আহ্বান জানান।
পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত ১৩টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষের প্রাচীনতম পেশা জুম চাষ, তাই তাঁদের বলা হয় জুমিয়া। চাকমা ও তঞ্চঙ্গ্যা ভাষায় পদ্ধতিটির নাম "জুম", ত্রিপুরা ভাষায় "হুঁ", মারমায় "ইয়া", পাংখোয়া ও লুসাইয়ে "ইকপ্রা", খেয়াংয়ে "লউ" আর খুমি ভাষায় "ল"।
আসামবস্তি-কাপ্তাই-মোরঘোনা সড়কের পাশের জুমচাষি ননা চাকমা জানান, প্রথমে পাহাড়ের ঢালে উপযোগী জমি বেছে জঙ্গল কাটা হয়। চৈত্র মাসে এক মাসের বেশি রোদে শুকিয়ে তা পোড়ানো হয়, তারপর চৈত্রের শেষ থেকে বৈশাখের শুরু পর্যন্ত আগাছা পরিষ্কার করে ধানসহ নানা ফসলের বীজ বোনা হয়।
বরাদমের জুমচাষি আনন্দ চাকমা বলেন, ধানের সঙ্গে দা দিয়ে গর্ত খুঁড়ে সাথি ফসল হিসেবে কলা, ভুট্টা, মারফা, মরিচ, ঢ্যাঁড়স, কাঁকরোল, আদা, মিষ্টিকুমড়া, তুলা ও তিল বোনা হয়। জুম ধানের জাতের মধ্যে রয়েছে হরিণ বিনি, কালা কবরক, লঙ লঙ, মেলে, কামারাঙ, গেলঙ, গুরি ও লোবাবিনিসহ নানা জাত। আষাঢ়-শ্রাবণে ধান পাকা শুরু হয়, ভাদ্র-আশ্বিন থেকে ঘরে ওঠে; এ বছর পোকার উপদ্রব না থাকায় ফলন ভালো হয়েছে বলে জানান তিনি।
প্রতিবেদনটি বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) বিশেষ প্রতিবেদন।
ছবি: রাঙামাটির পাহাড়ে ধানখেত, Adam Jones / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 2.0)
সূত্র: বাসস





মন্তব্য
(০)