ধান, পাট আর গমে আশানুরূপ লাভ না পেয়ে বিকল্প হিসেবে বারোমাসি সজনে চাষ করে সাফল্য পেয়েছেন যশোরের চৌগাছা উপজেলার পাতিবিলা গ্রামের কৃষক আক্তার হোসেন। এক বিঘা জমিতে ওডিসি-৩ জাতের সজনে থেকে বছরে তিন থেকে পাঁচ লাখ টাকা লাভের আশা করছেন তিনি।
২০২৩ সালে যশোর হর্টিকালচার সেন্টারের মাধ্যমে ভারত থেকে আনা ওডিসি-৩ জাতের ৩০০টি চারা নিজের জমিতে লাগান তিনি। শুরুতে এলাকার লোকজন হাসাহাসি করলেও কয়েক মাসের মধ্যেই গাছে সজনে ধরতে শুরু করে। সব মিলিয়ে খরচ হয়েছে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা, এর মধ্যেই প্রায় অর্ধলাখ টাকার সজনে বিক্রি করেছেন। চলতি মৌসুমে ৪ থেকে ৫ লাখ টাকার সজনে বিক্রির আশা তাঁর।
তাঁর জমির সুস্থ গাছে এখন ৮ থেকে ১০ কেজি পর্যন্ত সজনে ধরছে, প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১৫০ টাকায়। একটি গাছ থেকে পাঁচ-ছয় বছর ফল পাওয়া যেতে পারে, বছরের বিভিন্ন সময় ফুল-ফল আসে; বছরে তিন-চার দফা ফলনের সম্ভাবনা দেখছেন আক্তার। তাঁর সাফল্য দেখে এলাকার অনেকে জমি দেখতে আসছেন।
যশোর হর্টিকালচার সেন্টারের উপপরিচালক কৃষিবিদ দীপংকর দাস জানান, টিস্যু কালচার প্রযুক্তিতে ওডিসি-৩ জাতের মানসম্মত চারা উৎপাদন করা হচ্ছে। রোপণের পাঁচ-ছয় মাসের মধ্যে ফলন শুরু হতে পারে, বসতবাড়িতেও এ সজনে চাষ সম্ভব। গত বছর সেন্টারে প্রায় সাত হাজার চারা উৎপাদন হয়েছিল, যার ছয় হাজার কৃষকেরা নিয়েছেন; এবার লক্ষ্য ১০ হাজার।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর যশোরের অতিরিক্ত পরিচালক প্রতাপ মণ্ডল বলেন, ওডিসি-৩ সারা বছর ফুল ও ফল দেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করেছে। সরকারি সহায়তা, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং রপ্তানির উপযোগী বাজার গড়া গেলে এ ফসল পুষ্টির চাহিদা পূরণের পাশাপাশি কৃষকের আয়ের নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে।
প্রতিবেদনটি পাঠিয়েছেন কৃষি সময়ের যশোর সংবাদদাতা।
ছবি: গাছে ঝুলছে সজনে, Krish Dulal / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: কৃষি সময়





মন্তব্য
(০)