সবজির পাশাপাশি চাল ও গমের দাম কমায় খাদ্য মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের "বাংলাদেশের মূল্যস্ফীতির ধরন: জুলাই-সেপ্টেম্বর ২০২৬" প্রতিবেদন বলছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে খাদ্য মূল্যস্ফীতি গড়ে ৭.১৩ শতাংশে নেমেছে; আগের প্রান্তিকে তা ছিল ৮.৬৮ শতাংশ।
তবে সব পণ্যের দাম কমেনি। ডিম, আলু, মাছ, মাংস ও দুধের মতো প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবারের দাম এখনো বাড়তি, আর খাদ্য মূল্যস্ফীতিতে এসব পণ্যের অবদান ৫১ শতাংশের বেশি।
জ্বালানিতে নতুন চাপ: প্রথম প্রান্তিকে জ্বালানি খাতে মূল্যস্ফীতি ১৭.৪ শতাংশে উঠেছে, আগের প্রান্তিকে ছিল ১৭ শতাংশ। কাঠ, কৃষিজাত বর্জ্য, গোবর ও পাটকাঠির মতো জ্বালানির মূল্যস্ফীতি ২১.৮ থেকে ২২.১ শতাংশ হয়েছে; তরল জ্বালানি ও লুব্রিকেন্টে ১৩.৮ থেকে ১৪.৭ শতাংশ। প্রতিবেদনের সতর্কতা, সেপ্টেম্বরের শেষে বাড়ানো জ্বালানির দাম ভোক্তা মূল্যসূচকে পুরো প্রতিফলিত হয়নি, ফলে পরিবহন ও উৎপাদন খরচে আরও চাপ আসতে পারে।
আমদানিনির্ভর পণ্যের ভূমিকাও বাড়ছে। সার্বিক মূল্যস্ফীতির ২৭ শতাংশ এসেছে আমদানিনির্ভর খাদ্য ও খাদ্যবহির্ভূত পণ্য থেকে, আগের প্রান্তিকে যা ছিল ২৪.৯ শতাংশ; দেশীয় পণ্যের অবদান ৭৫.১ থেকে কমে ৭৩ শতাংশ। বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাল্টা, আপেল, নাশপাতি ও আঙুরের মতো আমদানি করা ফলে বিভিন্ন সময়ে শুল্ক-কর বাড়ায় বাজারে দাম বেড়েছে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সাম্প্রতিক জরিপে দেশের ৪৭ শতাংশ পরিবার সংসার চালাতে ঋণ করছে। বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, দুই বছর ধরে মজুরি বৃদ্ধির চেয়ে মূল্যস্ফীতি বেশি থাকায় প্রকৃত আয় কমেছে; প্রথম প্রান্তিকে ব্যবধান কিছুটা কমলেও সেপ্টেম্বরে আবার বাড়তে শুরু করে।
ছবি: ঢাকার সবজির বাজার, NahidSultan / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: জাগো নিউজ ২৪



মন্তব্য
(০)