পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার কয়েকটি গ্রামে ফেলে দেওয়া নারিকেলের ছোবড়াই জীবিকার প্রধান উপকরণ। ছোবড়া দিয়ে তৈরি হচ্ছে নানা ধরনের ব্রাশ, পাপোশসহ ব্যবহার্য পণ্য। সাত দশকের বেশি সময় ধরে চলা এই কুটিরশিল্পের পণ্য পাইকারদের হাত ধরে যাচ্ছে ঢাকাসহ দেশের নানা প্রান্তে।
কীভাবে তৈরি হয়: বাড়ি ও বাজার থেকে সংগ্রহ করা ছোবড়া প্রায় এক মাস পানিতে ভিজিয়ে রাখা হয়। তারপর ঐতিহ্যগত পদ্ধতিতে আলাদা করা হয় মজবুত আঁশ। চিকন সুতার সঙ্গে ছোট ছোট ছোবড়ার টুকরা গেঁথে তৈরি হয় নানা আকার ও নকশার পাপোশ। আলকিরহাটে নির্দিষ্ট মাপে আঁশ কেটে সুতায় পেঁচিয়ে কাঠের হাতলে পেরেক দিয়ে লাগিয়ে, প্রায় ১০টি ধাপে তৈরি হয় একটি ব্রাশ।
আলকিরহাট ও সুটিয়াকাঠী গ্রামের কয়েকটি পরিবার বংশপরম্পরায় কাজটি টিকিয়ে রেখেছে। সংসারের কাজের ফাঁকে নারীরা পাপোশ তৈরি করে বাড়তি আয় করছেন, পুরুষেরাও সমানভাবে হাত লাগান। একসময় পরিবেশের বোঝা হয়ে থাকা ছোবড়া এখন গ্রামেই কাজের সুযোগ তৈরি করছে।
দাম ও মজুরি: আকার ও মানভেদে প্রতিটি ব্রাশ পাইকারি ও খুচরা বাজারে ৮০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হয়। ছোট ও মাঝারি পাপোশ ২০০ টাকা থেকে, বড় আকর্ষণীয় পাপোশ ৬০০ থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত। কিন্তু সারা দিন খেটে একজন কারিগর পান মাত্র ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা মজুরি।
আধুনিক বাজারব্যবস্থার অভাব, বিপণনের সীমাবদ্ধতা এবং পুঁজি ও ক্রেতার সংকটে শিল্পটি বড় পরিসরে ছড়াতে পারেনি। কারিগরদের দাবি, সহজ শর্তে ঋণ, বাজার সম্প্রসারণ ও আধুনিক বিপণন পেলে এটি বড় কর্মসংস্থানের খাত হতে পারে।
বিসিক পিরোজপুরের উপব্যবস্থাপক এইচ এম ফাইজুর রহমান বলেন, ছোবড়া দিয়ে গাড়ি ধোয়ার ব্রাশ ও পাপোশ তৈরির উদ্যোগ পরিবেশবান্ধব; কারিগর ও উদ্যোক্তাদের কারিগরি পরামর্শ এবং সহজ শর্তে ঋণ দিয়ে বিসিক সহযোগিতা করবে। প্রতিবেদনটি পাঠিয়েছেন ঢাকা মেইলের পিরোজপুর জেলা প্রতিনিধি।
ছবি: নারিকেলের ছোবড়ার আঁশে পাপোশ তৈরি, Wouter Hagens / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: ঢাকা মেইল



মন্তব্য
(০)