ঘূর্ণিঝড়, বন্যা ও নদীভাঙনে ঘরবাড়ি হারিয়ে সাতক্ষীরা শহরের বস্তিতে আশ্রয় নেওয়া পরিবারগুলোর ৭৪.৯ শতাংশ তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে, অথচ সরকারি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় আছে মাত্র ৭.৫ শতাংশ। খাদ্য নিরাপত্তা নেটওয়ার্ক খানি বাংলাদেশ ও পার্টিসিপেটরি রিসার্চ অ্যান্ড অ্যাকশন নেটওয়ার্কের (প্রান) 'ডিসপ্লেসড, ডিনায়েড' শীর্ষক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে।
আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবসে বুধবার (১৪ অক্টোবর) সাতক্ষীরায় এক বহুপক্ষীয় সংলাপে গবেষণাটি উপস্থাপন করেন প্রানের প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর উম্মে সালমা। পৌরসভার ৩৫টি বসতির ৩৫৮ পরিবারের ১,৩৪১ জনের তথ্য নিয়ে গবেষণাটি করা হয়। পৌরসভার ৪৭টি অনানুষ্ঠানিক বসতিতে প্রায় ৭,৫৭৩টি পরিবার থাকে, যাদের বড় অংশ শ্যামনগর, আশাশুনিসহ নানা এলাকা থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে এসেছে।
জরিপে অংশ নেওয়া ৯৫.৫ শতাংশ পরিবারের অন্তত একজন কম খেয়েছেন বা কোনো বেলা বাদ দিয়েছেন; ৫২.২ শতাংশ পরিবারের কেউ অন্তত এক দিন পুরো না খেয়ে থেকেছেন। খাবার জোগাতে ৫৭.৩ শতাংশ পরিবার উৎপাদনশীল সম্পদ বা প্রয়োজনীয় জিনিস বিক্রি করেছে। ৯৬.৯ শতাংশ পরিবার আংশিক বা পুরোপুরি লবণাক্ত ও আয়রনযুক্ত অগভীর নলকূপের পানির ওপর নির্ভরশীল, আর গত এক মাসে অর্ধেক পরিবারে পানিবাহিত রোগ দেখা গেছে।
সরকারি জমিতে থাকা পরিবারের ৫৯ শতাংশ উচ্ছেদ বা উচ্ছেদের হুমকিতে। গত ১২ মাসে ৭৯.১ শতাংশ পরিবার কোনো সরকারি বা বেসরকারি সহায়তা পায়নি, ৯২.৭ শতাংশ জানে না কোথায় অভিযোগ জানাতে হয়। ৬ থেকে ১৮ বছর বয়সী শিশুদের ৩৩.২ শতাংশ বিদ্যালয়ে নেই, তাদের ৩০ শতাংশ শিশুশ্রমে যুক্ত। সংলাপে বাস্তুচ্যুত পরিবারের সদস্যরা জানান, পুরুষদের বড় অংশ ভ্যান চালিয়ে দিনে প্রায় ২০০ টাকা আয় করেন, তাতে সংসার চলে না।
বক্তারা বলেন, বাস্তুচ্যুতির পর খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রতিরোধযোগ্য ব্যর্থতার প্রতিফলন; বস্তিবাসীর হালনাগাদ তথ্যভান্ডার করে কর্মসংস্থান, প্রশিক্ষণ ও সামাজিক সুরক্ষায় যুক্ত করা জরুরি। সাতক্ষীরা সদরের ইউএনও অর্ণব দত্ত জানান, যাঁরা বয়স্ক বা বিধবা ভাতা পান না তাঁদের তালিকা দিলে ভাতার আওতায় আনা হবে, আর পৌর এলাকার বাইরের প্রকৃত ভূমিহীনেরা আবেদন করলে নীতিমালা অনুযায়ী কৃষি খাসজমি বন্দোবস্তের বিষয় বিবেচনা করা হবে।
সূত্র: চ্যানেল আই অনলাইন



মন্তব্য
(০)