প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিনের বর্জ্যদূষণ কমাতে পরিবেশ অধিদপ্তরের সঙ্গে ব্র্যাকের তিন বছর মেয়াদি চুক্তির প্রথম পর্যায় শেষ হচ্ছে ৩০ নভেম্বর, পর্যটন মৌসুম শুরুর ঠিক আগে। বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ডের অর্থায়নে এ প্রকল্পে গত ১১ মাসে প্রায় ১৫০ টন বর্জ্য সংগ্রহ হয়েছে। কার্যক্রম বন্ধ হলে দ্বীপে আবার বর্জ্য জমে প্রবাল ও সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য হুমকিতে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা স্থানীয়দের, জানিয়েছে সমকাল।
দ্বীপের পূর্বপাড়া, বাজারপাড়া, কোনারপাড়া, গলাচিপা, ছেঁড়াদ্বীপসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে বর্জ্য সংগ্রহ করে সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশনে পচনশীল ও অপচনশীল আলাদা করা হয়। ৩৬টি বড় কমিউনিটি বিন, নয়জন প্রশিক্ষিত কর্মী ও তিনটি ভ্যান কাজ করছে। পরিচ্ছন্নতাকর্মী মো. ফয়সাল জানান, তাঁরা প্রতিদিন ৩০০ থেকে ৪০০ কেজি বর্জ্য সংগ্রহ করেন; প্লাস্টিকের বোতল ও পলিথিনে দ্বীপ সয়লাব হয়ে যাচ্ছে।
বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তরের উদ্যোগও চলছে। পচনশীল বর্জ্য থেকে কম্পোস্ট সার তৈরি হচ্ছে, যা স্থানীয় কৃষিকাজে ব্যবহারের পরিকল্পনা আছে। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কেন্দ্রে এক হাজার কেজি পিইটি বোতল হস্তান্তর করা হয়েছে; বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বসানো গ্যাসিফায়ারে প্লাস্টিক থেকে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা থাকলেও তা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি, জানান উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী মো. ফারুক হোসেন।
সচেতনতার জন্য বাড়ি বাড়ি প্রচারণা, উঠান বৈঠক, লোকনাট্য ও স্ট্রিট আর্ট হয়েছে; চারটি স্কুল ও মাদ্রাসার ৩৮০ শিক্ষার্থী পরিবেশ কর্মশালায় অংশ নিয়েছে। কমিউনিটি ভলান্টিয়ার সালমা আক্তার বলেন, ৩৪ বছরে স্থানীয়দের নিয়ে এমন ধারাবাহিক উদ্যোগ তিনি খুব একটা দেখেননি। টেকনাফের ইউএনও এসএম অনীক চৌধুরী বলেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় উন্নতি হয়েছে, পর্যটন মৌসুমের আগে ধারাবাহিকতা জরুরি।
সেন্টমার্টিন ইউপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম বলেন, এমন দ্বীপে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা মৌসুমি কাজ হতে পারে না। চট্টগ্রাম পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ও প্রকল্প পরিচালক কামরুল হাসান জানান, অর্থায়ন সংকটে চুক্তি নবায়নের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি; আলোচনা চলছে, ইউনিয়ন পরিষদকে যুক্ত করার কথাও বিবেচনায় আছে।
প্রতিবেদন: আব্দুর রহমান, টেকনাফ, সমকাল
ছবি: Farhan Daud / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: সমকাল





মন্তব্য
(০)