সুরা বাকারার ১৩ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, যখন তাদের বলা হয় অন্যরা যেভাবে ইমান এনেছে সেভাবে ইমান আনো, তারা বলে, নির্বোধরা যেভাবে ইমান এনেছে আমরাও কি সেভাবে আনব? সাবধান, তারাই নির্বোধ, কিন্তু তারা জানে না। এই আয়াত ধরে প্রথম আলোর ধর্ম ডেস্ক লিখেছে, মহানবী (সা.)-এর মক্কা ও মদিনার জীবনে একত্ববাদের দাওয়াতের বিরোধিতা এসেছিল তিনটি আলাদা পক্ষ থেকে।
প্রথম পক্ষ মক্কার অভিজাত ও প্রভাবশালী নেতারা। তাঁরা প্রকাশ্যে শত্রুতা করলেও তাতে খানিকটা যুক্তিবোধ ও শিষ্টাচার ছিল। আবু জাহেল নবীজিকে (সা.) গালমন্দ করার পর হামজা (রা.) তাকে আঘাত করলে আবু জাহেল নিজের গোত্রকে থামিয়ে বলেছিল, সে-ই আগে অন্যায় করেছে (ইবনে হিশাম, আস-সিরাহ আন-নাবাবিয়্যাহ)। কুরাইশ নেতা উতবা ইবনু রাবিয়াহ আপসপ্রস্তাব নিয়ে এসে কোরআন শুনে ফিরে গিয়ে বলেছিল, এ কবিতা নয়, জাদুও নয়।
দ্বিতীয় পক্ষের উদ্ভব হিজরতের পর মদিনায়: আবদুল্লাহ ইবনে উবাই ইবনে সালুলের নেতৃত্বে মোনাফেকদের দল। প্রকাশ্যে শত্রুতার সাহস না থাকায় তারা মুখে ইসলাম গ্রহণের কথা বলে সমাজের ভেতরে থেকে বিভেদ ও গুজব ছড়াত। সুরা মোনাফেকুনের ৪ নম্বর আয়াতে তাদের সম্পর্কে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
তৃতীয় পক্ষকে লেখক আরবি শব্দে 'সফাহ' বলেছেন: যাদের চিন্তা অগভীর, কাজে গাম্ভীর্য নেই। সুরা নিসার ৫ নম্বর আয়াতে নির্বোধদের হাতে ধনসম্পদ তুলে না দেওয়ার কথা আছে। এই দলের বিরোধিতার কোনো যুক্তি ছিল না; তাদের পথ ছিল গালমন্দ, ব্যক্তিগত আক্রমণ আর শারীরিক কষ্ট দেওয়া।
উদাহরণ হিসেবে লেখায় এসেছে, নবীজি (সা.) কাবা চত্বরে সিজদায় থাকার সময় উকবা ইবনে আবি মুয়াইত তাঁর পিঠে উটের নাড়িভুঁড়ি চাপিয়ে দিয়েছিল (সহিহ বুখারি, হাদিস ২৪০), আর আবু লাহাব ও তার স্ত্রী তাঁর চলার পথে কাঁটা বিছিয়ে রাখত।
লেখকের মতে, আজকের সমাজেও সত্যের পথে চলা মানুষকে এই তিন ধরনের বিরোধিতার মুখে পড়তে হয়; যুক্তি বোঝে এমন বিরোধীর মোকাবিলায় দরকার প্রজ্ঞা, ধৈর্য আর অকাট্য যুক্তি।
লেখা: ধর্ম ডেস্ক, প্রথম আলো
ছবি: Khalili Collections / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন); একাদশ শতকের কুফি লিপির কোরআন
সূত্র: প্রথম আলো





মন্তব্য
(০)