সিগন্যালে দাঁড়ানো বাইকে পেছন থেকে রিকশার ধাক্কা, কিংবা যাত্রী না থাকা সত্ত্বেও গরমে বাসের ইচ্ছাকৃত দেরি; এমন মুহূর্তে প্রচণ্ড রাগ হয়, আর রাগের মাথায় বলা কথা বা করা কাজ পরে নিজের কাছেই খারাপ লাগে। প্রথম আলোর ধর্ম পাতায় এক লেখায় এই অভিজ্ঞতা থেকে রাগ দমনের ইসলামি শিক্ষা তুলে ধরেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের খণ্ডকালীন শিক্ষক মুহাম্মাদ মুহসিন মাশকুর।
লেখক ২০০৯ সালে জার্নাল অব কগনিটিভ নিউরোসায়েন্সে প্রকাশিত ডেনসন ও সহকর্মীদের এক গবেষণার উল্লেখ করে বলেন, রাগের মুহূর্তে মস্তিষ্কের যুক্তি ও আত্মনিয়ন্ত্রণের অংশে অস্বাভাবিক সক্রিয়তা দেখা দেয়; তাই রাগের সময়ের সিদ্ধান্ত প্রায়ই ভুল হয়।
সুরা আলে ইমরানের ১৩৪ নম্বর আয়াতে মুত্তাকিদের বৈশিষ্ট্য হিসেবে রাগ দমন ও মানুষকে ক্ষমা করার কথা বলা হয়েছে। লেখকের ব্যাখ্যায়, আয়াতে ব্যবহৃত 'কাজিমিনাল গাইজ' শব্দের অর্থ ভেতরে চেপে রাখা; অর্থাৎ রাগ হবে না এমন নয়, কিন্তু তা প্রতিক্রিয়া হয়ে বের হতে দেওয়া যাবে না।
প্রথম শিক্ষা, প্রকৃত শক্তিশালী সে-ই, যে রাগের মুহূর্তে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে (সহিহ বুখারি, ৬১১৪)। দ্বিতীয়, উপদেশ চাইতে আসা এক ব্যক্তিকে মহানবী (সা.) বারবার একটিই কথা বলেছিলেন: 'রাগ কোরো না' (সহিহ বুখারি, ৬১১৬)। তৃতীয়, রাগ হলে দাঁড়ানো অবস্থায় থাকলে বসে পড়া এবং তাতেও না কমলে শুয়ে পড়ার পরামর্শ (সুনানে আবু দাউদ, ৪৭৮৪)। চতুর্থ, সুরা শুরার ৩৭ নম্বর আয়াতে রাগান্বিত হয়েও ক্ষমা করাকে জান্নাতিদের গুণের সারিতে রাখা হয়েছে।
লেখায় আনাস (রা.)-এর বর্ণনায় একটি ঘটনার কথাও এসেছে: এক বেদুইন মহানবী (সা.)-এর গায়ের মোটা চাদর ধরে এমন জোরে টান দেয় যে তাঁর কাঁধে দাগ বসে যায়। তবু তিনি রাগ করেননি, মুচকি হেসে লোকটিকে কিছু দেওয়ার নির্দেশ দেন (সহিহ বুখারি, ৩১৪৯)।
লেখকের পরামর্শ, পরের বার রাগ উঠলে থেমে যান, কথা বলার আগে তিন সেকেন্ড অপেক্ষা করুন, দরকার হলে বসে পড়ুন বা জায়গা বদলান। রাগের মুহূর্তে বলা কথা বা করা কাজের দায় পরে নিজেকেই বহন করতে হয়।
লেখক: মুহাম্মাদ মুহসিন মাশকুর, প্রথম আলো
ছবি: Ehsanul Siddiq Aranya / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: প্রথম আলো




মন্তব্য
(০)