হিজরি ১৮ সনের দিকে মুসলিম সাম্রাজ্য পরপর দুটি বড় দুর্যোগে পড়েছিল: হিজাজে দুর্ভিক্ষ "আম আর-রামাদাহ" এবং শাম অঞ্চলে আমওয়াস মহামারি। খলিফা ওমর (রা.) সেগুলো কীভাবে সামলেছিলেন, প্রথম আলোর ধর্ম পাতায় ইতিহাসের সূত্র ধরে তা তুলে ধরা হয়েছে।
হিজরি ১৭ সনের শেষ থেকে ১৮ সনের শুরু পর্যন্ত প্রায় নয় মাস হিজাজে বৃষ্টি হয়নি। খেতের ফসল শুকিয়ে যায়, গবাদিপশু মারা যায়, মদিনা ও আশপাশে ক্ষুধা ছড়িয়ে পড়ে। মাটি শুকিয়ে ছাইয়ের মতো হয়ে যাওয়ায় বছরটিকে বলা হয় "ভস্মের বছর" (ইবনে সাদ, আত-তাবাকাতুল কুবরা)।
সংকট শুরু হতেই খলিফা মদিনার বাইতুল মাল থেকে খাদ্যশস্য ও অর্থ বিলিয়ে দেন, একসময় কোষাগার শূন্য হয়ে যায়। এরপর তিনি ইরাকের গভর্নর আবু মুসা আশআরি (রা.) এবং ফিলিস্তিন ও মিসরের দায়িত্বে থাকা আমর ইবনুল আসকে (রা.) চিঠি লিখে সাহায্য চান। প্রদেশগুলো থেকে খাদ্যবোঝাই উটের কাফেলা আসে; আমর ইবনুল আস লোহিত সাগর পাড়ি দিয়ে জেদ্দা বন্দরে খাদ্যের জাহাজ পাঠান। প্রতিটি অনাহারী পরিবার যেন সমানভাবে খাবার পায়, সে জন্য তদারকি কমিটিও গঠন করা হয়।
দুর্ভিক্ষের সময় তিনি জাকাত ও কর আদায় স্থগিত রাখেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তা আদায়ের ব্যবস্থা করেন। ক্ষুধার তাড়নায় জীবন বাঁচাতে কেউ চুরি করলে তার হাত কাটা হবে না, এমন নীতিও ঘোষণা করেন। নিজে ঘি, দুধ ও গোশত খাওয়া ছেড়ে দেন; দিনের পর দিন সিরকা ও জয়তুনের তেল দিয়ে শুকনো রুটি খেতেন। নয় মাস পর বৃষ্টি নামলে দুর্ভিক্ষের অবসান হয়।
এর পরপরই শামে আমওয়াস মহামারি ছড়ায়, আবু উবাইদাহ ইবনুল জাররাহ ও মুআজ ইবনে জাবালসহ (রা.) বহু সাহাবি মারা যান। সিরিয়ার পথে "সারগ" নামের জায়গায় পৌঁছে খলিফা পরামর্শ সভা ডাকেন; অধিকাংশের মত ছিল মহামারি অঞ্চলে না ঢোকা। আবদুর রহমান ইবনে আউফ (রা.) তখন নবীজির (সা.) হাদিস শোনান: কোথাও মহামারির খবর শুনলে সেখানে প্রবেশ করবে না, আর নিজের এলাকায় দেখা দিলে পালিয়ে বের হবে না (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫৭২৯)। খলিফা মদিনায় ফিরে যান।
মহামারি শেষে তিনি নিজে শাম সফরে গিয়ে প্রশাসন পুনর্গঠন করেন, শূন্য পদে নতুন গভর্নর নিয়োগ দেন এবং মৃতদের রেখে যাওয়া সম্পদ বণ্টনের ব্যবস্থা করেন। লেখায় এসব সিদ্ধান্তকে দূরদর্শী দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও জনকল্যাণমূলক শাসনের দৃষ্টান্ত বলা হয়েছে।
সূত্র: প্রথম আলো




মন্তব্য
(০)