গর্ভকাল একজন নারীর জীবনে আনন্দের, আবার শারীরিক পরিবর্তন, ক্লান্তি আর অনাগত সন্তানকে নিয়ে দুশ্চিন্তারও সময়। প্রথম আলোর ধর্ম ডেস্ক লিখেছে, নিয়মিত চিকিৎসা ও পরিচর্যার পাশাপাশি এ সময় আল্লাহর ওপর নির্ভরতা হবু মাকে মানসিক প্রশান্তি দিতে পারে।
কোরআনে প্রবীণ নবী জাকারিয়া (আ.)-এর সন্তান চাওয়ার প্রার্থনা বর্ণিত আছে। বয়সের কারণে সন্তান লাভের স্বাভাবিক সম্ভাবনা না থাকলেও তিনি আল্লাহর দয়া থেকে নিরাশ হননি। ইবনে কাসিরের তাফসির অনুযায়ী, মরিয়মের কাছে আল্লাহর অলৌকিক নেয়ামত দেখে তিনি এই দোয়া করেন।
দোয়াটির উচ্চারণ: রাব্বি হাব লি মিল-লাদুনকা জুররিইয়্যাতান তাইয়্যিবাহ; ইন্নাকা সামিউদ দুআ। অর্থ: হে আমার প্রতিপালক, আমাকে তোমার পক্ষ থেকে এক পবিত্র সন্তান দান করো; নিশ্চয়ই তুমি প্রার্থনা শ্রবণকারী। (সুরা আলে ইমরান, আয়াত ৩৮)
লেখায় বলা হয়েছে, 'জুররিইয়্যাতান তাইয়্যিবাহ' বা উত্তম সন্তান কথাটির মধ্যে সন্তানের শারীরিক, মানসিক ও আত্মিক সুস্থতার প্রার্থনা রয়েছে। তাফসিরবিদ আবদুর রহমান সাদির ব্যাখ্যায়, উত্তম সন্তান সে, যার বাইরের আচরণ ও ভেতরের চরিত্র দুটিই আল্লাহ ও মানুষের কাছে প্রশংসনীয়।
চিকিৎসকের পরামর্শে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও পুষ্টিকর খাবারের পাশাপাশি দোয়াটিকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ করা যায়, বিশেষ করে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের পর, অসুস্থ বা অস্বস্তি বোধ করার সময় এবং চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার মুহূর্তে। লেখায় সুনানে তিরমিজির (হাদিস ৩৩৭০) বর্ণনা উদ্ধৃত করা হয়েছে: দোয়াই ইবাদতের মূল।
লেখা: ধর্ম ডেস্ক, প্রথম আলো
ছবি: Ashikul Islam Anik / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: প্রথম আলো





মন্তব্য
(০)