দক্ষিণ আফ্রিকায় এবার এল নিনোর প্রভাবে আরও গরম ও শুষ্ক গ্রীষ্মের পূর্বাভাস। তাপের চাপ, মাটির আর্দ্রতা হারানো আর রোগ থেকে ফসল বাঁচাতে পালং শাকের চাষিরা প্রতিদিনের মাঠের কাজে বদল আনছেন, জানিয়েছে ফুড ফর মজানসি।
ইস্টার্ন কেপ ও লিমপোপোর কৃষকেরা জানাচ্ছেন, বাতাস কম চলাচল করে এমন জায়গায় পুরনো পাতায় পাউডারি মিলডিউ দেখা দিচ্ছে। ইস্টার্ন কেপের কৃষক লুইয়োলো এমফেনকা বলেন, 'দিনের গরমে পালং শাক খুব নেতিয়ে পড়ে। মিলডিউ প্রথমে পুরনো পাতায় ধরে, তারপর ছড়ায়।' তিনি খাবার সোডা, থালা ধোয়ার তরল সাবান ও এপসম লবণ মিশিয়ে স্প্রে করেন, তাতে ছড়ানো থেমেছে বলে জানান; পরে গাছ ঢেকে দেন ছায়াজালে। তাঁর পরামর্শ: ছায়াজাল, রাতের ঠান্ডায় সেচ আর শুরুতেই নির্দিষ্ট জায়গায় স্প্রে। তবে নিজে রোগের চিকিৎসার আগে ফসল বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে বলা হয়েছে।
লিমপোপোর কৃষক পার্সি মোলেকা কোমানে দেখেছেন, মাটি ভেজা থাকলেও বেলা ১১টা থেকে ৩টার মধ্যে গাছ নেতিয়ে পড়ে। মাটি ঠান্ডা ও আর্দ্র রাখতে তিনি মালচিং বাড়িয়েছেন, পাতা পোড়া এড়াতে আর রাতে মিলডিউ ডেকে আনা আর্দ্রতা কমাতে সেচ সরিয়েছেন বিকেল ৪টায়। এখন ঘন ঘন পানি দেন, বিকেলের ছায়া পড়ে এমন জায়গায় নতুন বেড করেন এবং প্রচণ্ড গরম আসার আগেই আবাদ শুরু করেন।
স্টেলেনবশ বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডি গবেষক হ্যামন্ড মোতসি বলেন, জৈব পদার্থ মাটিতে পানি ধরে রাখতে সাহায্য করে, সংরক্ষণমূলক চাষও কাজে দেয়, কিন্তু তীব্র খরায় শুধু মাটি ব্যবস্থাপনায় চলবে না। তাঁর মতে দীর্ঘ মেয়াদে সেচই হবে মূল ভরসা; এ বছর ওয়েস্টার্ন কেপে প্রায় বৃষ্টি বা শীত হয়নি, আর বাঁধ, পাইপ ও প্রযুক্তিতে বড় পুঁজি লাগে।
প্রতিবেদনটি লিখেছেন ফুড ফর মজানসির লিসাকানিয়া ভেন্না।
ছবি: Peter Forster / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 2.0)
সূত্র: ফুড ফর মজানসি





মন্তব্য
(০)