প্রোবায়োটিক ব্যাকটেরিয়া ল্যাকটোব্যাসিলাস অ্যাসিডোফিলাস (Lactobacillus acidophilus) প্রাণিসম্পদে অ্যান্টিবায়োটিক গ্রোথ প্রমোটারের সবচেয়ে সম্ভাবনাময় বিকল্পগুলোর একটি, তবে বাণিজ্যিক খামারে ধারাবাহিক ফলের প্রমাণ এখনো মেলেনি। চীনা গবেষকদের এক পর্যালোচনায় এ কথা বলা হয়েছে।
প্রাণীর অন্ত্রে স্বাভাবিকভাবে থাকা এই ল্যাকটিক অ্যাসিড ব্যাকটেরিয়া নিয়ে অনেক গবেষণা হয়েছে। পর্যালোচনা অনুযায়ী, এটি ক্ষতিকর জীবাণু দমন করতে, অন্ত্রের প্রাচীর মজবুত করতে, রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করতে আর অন্ত্রের জীবাণুর ভারসাম্য ঠিক রাখতে পারে।
সবচেয়ে জোরালো প্রমাণ শূকরে, বিশেষ করে দুধ ছাড়ানোর সময়, যখন ছানারা হজমের গোলমালে ভোগে, কম খায় আর সহজে অসুস্থ হয়। বহু গবেষণায় সম্পূরক খাওয়ানোর সঙ্গে ভালো বৃদ্ধি, পুষ্টি হজম, মজবুত অন্ত্র আর কম প্রদাহের সম্পর্ক পাওয়া গেছে। হাঁস-মুরগিতে অন্ত্রের স্বাস্থ্য, রোগ প্রতিরোধ ও টিকার সাড়া ভালো হওয়ার ইঙ্গিত আছে, তবে জাত, ব্যবস্থাপনা, খাদ্য ও পণ্যভেদে ফল বদলায়। গরুসহ জাবরকাটা প্রাণীতে উৎপাদন, দুধের পরিমাণ বা পাকস্থলীর কাজে উন্নতির যথেষ্ট প্রমাণ নেই, যদিও বাছুরের স্বাস্থ্য ও ডায়রিয়ায় কিছু উপকারের ইঙ্গিত আছে।
গবেষকদের মতে, এই ফারাকের একটি কারণ হলো অনেক গবেষণা হয়েছে নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে, প্রায়ই প্রাণীকে ইচ্ছা করে জীবাণুর সংস্পর্শে এনে। বাণিজ্যিক খামারে খাদ্য, ঘর, প্রাণীর ঘনত্ব, আবহাওয়া আর রোগের চাপ অনেক বেশি ভিন্ন।
ব্যবহারিক সমস্যাও আছে: স্ট্রেইন, প্রজাতি, খাদ্য, বয়স আর খামারভেদে ফল বদলায়, আর ব্যাকটেরিয়াটি তাপ ও অক্সিজেনে সংবেদনশীল, তাই সুরক্ষা প্রযুক্তি ছাড়া খাদ্য তৈরি বা সংরক্ষণের সময় মরে যেতে পারে। গবেষকেরা বড় পরিসরে খামার পর্যায়ের পরীক্ষার আহ্বান জানিয়েছেন এবং প্রজাতি, বয়স ও উৎপাদন ব্যবস্থা অনুযায়ী নির্দিষ্ট প্রোবায়োটিকের দিকে যাওয়ার কথা বলেছেন।
ছবি: Adesolive / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: AgNavigator





মন্তব্য
(০)